সেই গৎবাঁধা কৌশলেই ডুবে কাবু

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের কোন অধিনায়কই এই চিন্তা থেকে বাইরে বেরুতে পারেন না। মাশরাফি মর্তুজা কিংবা সাকিব আল হাসানকেও দেখা গেছে এমন করতে।  ক্রিজে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকলে বাঁহাতি স্পিনার ব্যবহার করা যাবে না। ডানহাতি থাকলে অফ স্পিনারদের রাখতে হবে দূরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচেও  মাহমুদউল্লাহকেও এমন কৌশল নিতে দেখা গেল। যা আদতে কাজে আসেনি।

১৭১ রান করেও শ্রীলঙ্কাকে আটকাতে না পেরে ম্যাচ হারার বড় দায় হয়ত লিটন দাসের সহজ দুই ক্যাচ মিস। কিন্তু বাংলাদেশের প্রক্রিয়াতেও ছিল বড় গলদ। ম্যাচদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের দুই সেরা বোলার সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণ থেকে দূরে রাখেন মাহমুদউল্লাহ।

দলের বাকিদের মার খাওয়ার মাঝে প্রথম ২ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে জোড়া উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। ম্যাচে ফিরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর তিনি আক্রমণ থেকে হাওয়া।

প্রথম ওভারে ১৩ রান দেওয়া মোস্তাফিজ আসেন আর ১৫তম ওভারে। এর মাঝেই ঘটে যায় অনেক কিছু। ক্রিজে দুই বাঁহাতি ব্যাটারদের দেখে অফ স্পিনার লেলিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে বাংলাদেশ।  অনিয়মিত আফিফ হোসেন ও অধিনায়ক নিজে এই সময় বল করেছেন।

অধিনায়ক তার দুই ওভারে দেন ২১ রান। কোন সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। আফিফ দেন ১৫। অবশ্য লিটন ভানুকা রাজাপাকসের ক্যাচ হাতে রাখতে পারলে হয়ত ৪ রান কম দিয়ে একটা উইকেট পেতেন তিনি।

এটা বাদ দিলে এই দুই অফ স্পিনারের ৩ ওভার থেকে এসেছে ৩৬ রান। এরপর সাকিব-মোস্তাফিজ আক্রমণে এলেও ম্যাচ তখন লঙ্কানদের মুঠোয়। ম্যাচ শেষে এসব কৌশলের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনে আসা সিনিয়র ক্রিকেটার মুশফিকের কাছে। তিনি সমর্থন করলেন অধিনায়কের সিদ্ধান্ত, 'আজ সাকিবের জায়গায় যে বোলিং করেছে, সে কিন্তু একটা সুযোগ (ক্যাচ) তৈরি করেছে। সেটা কাজে লাগাতে পারলে পরে ডানহাতি ব্যাটসম্যান আসত। তখন সাকিব আরও বেশি কার্যকর হতে পারত।'

নিদহাস ট্রফিতেও অধিনায়ক সাকিব নিজেকে আক্রমণ থেকে দূরে রেখেছিলেন একই যুক্তিতে। সেবার তা কাজে লাগেনি। এমন নজির আছে সব অধিনায়কের বেলায়।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাকিব-মোস্তাফিজকে আক্রমণে না এনে কেন অপেক্ষা করা হলো, এই প্রশ্ন হয়েছে চড়া। মুশফিক জানালেন, শেষের জন্য জমিয়ে রাখা হয়েছিল এই দুজনকে। যদিও শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচটা জমে থাকেনি, 'আমার মনে হয়, সঠিক সময়ে সেরা বোলাররা বোলিং করছে কী না, এটা গুরুত্বপূর্ণ। আর এক দিকে যেহেতু বাউন্ডারি ছোট ছিল, যেকোনো সময়ে একজন বাঁহাতি স্পিনার আনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। সাকিব একজন চ্যাম্পিয়ন বোলার, ডেথ ওভারে বোলিং করতে পারে, শেষ ওভারেও বোলিং করতে পারে। যদি এমন হতো যে শেষ ওভারে প্রয়োজন, তখন সে-ই হতো আমাদের বোলার।'  

'ইনিংসের শেষদিকেই তো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলো হয়, তখন আমরা চেয়েছিলাম সাকিবকে আনব। কারণ শেষদিকেই কঠিন সময়টা আসে। সে এই সব মুহূর্তের চাপ সইতে পারে। আমরা এটা ভেবেছিলাম।'