শুরুর চাপ সামলে মুশফিকের ব্যাটে এগুচ্ছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

জ্বলে উঠার আগেই নিভে যান সৌম্য সরকার। লিটন দাস তো ফেরেন প্রতিপক্ষকে ক্যাচিং অনুশীলন করিয়ে। তাতে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বড় চাপে বাংলাদেশ। এরপর চাপ সামালতে কিছুটা ধীর গতিতে ব্যাট করতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। চেষ্টা চালালেও সে অর্থে পেরে উঠছেন না সাকিব আল হাসানও। তাতে ক্রমেই টাইগারদের লক্ষ্যটা হচ্ছে বড়।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৫৯ রান। জিততে হলে পরের ১০ ওভারে আরও ৮২ রান করতে হবে তাদের। 

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই দারুণ একটি বাউন্ডারি মারেন সৌম্য। প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে ফর্মের ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া এ ব্যাটেরের কাছে এমন কিছুই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু প্রত্যাশার পারদ উঁচুতে ওঠার আগেই তা থামিয়ে দেন তিনি। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিডউইকেটে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন জর্জ মানজির হাতে।

মানজি ক্যাচটা ঠিকভাবে ধরেছেন কিনা যাচাই করতেই হয়তো এক ওভার পর সহজ এক ক্যাচ তুলে দেন লিটন। যেন তাকে বোলিং অনুশীলন করাচ্ছেন। ব্র্যাডলি হুইলের বলে এগিয়ে আলতো করে মানজির হাতে তুলে দেন। আর তাতেই বড় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

সে চাপ বাড়তে পারতো আরও। ফর্ম হারিয়ে নিজেকে খুঁজতে থাকা মুশফিক উইকেটে নেমে ছিলেন বেশ নড়বড়ে। প্রথম বলেই তার বিরুদ্ধে জোরালো আবেদন হয়। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে অল্পের জন্যই বেঁচে গেছেন। জশ ডেভির ভেতরে ঢোকা বল মিস করলে প্যাডে লাগে তার। রিভিও নিয়েছিল স্কটল্যান্ড। তবে আম্পায়ার্স কলের কারণে এ যাত্রা রক্ষা পান এ ব্যাটার।

অপর প্রান্তে সাকিব আল হাসানও পারছিলেন না নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে। তাতে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ হয় মাত্র ২৫ রান। যেখানে স্কটিশরা তুলেছিল ৩৮। পাওয়ার প্লে শেষ হলেও রানের গতি বাড়াতে পারছেন না তারা।

তবে নবম ওভারে যেন নড়েচড়ে বসেন মুশফিক। হঠাৎই আগ্রাসী ভূমিকায়। টানা দুই বলে ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ সামলে নেওয়ার চেষ্টা চালান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তিন পেসারের তোপে শুরুটা ভালো হয়নি স্কটিশদের। দলীয় ৫ রানেই কাইল কোয়ের্টজারকে হারায় তারা। তবে আরেক ওপেনার জর্জ মানজির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৪০ রান। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পর ৮ রানের ব্যবধান ৫টি উইকেট তুলে তাদের বড় চাপে ফেলে দেয় টাইগাররা।

তবে সপ্তম উইকেটে সপ্তম উইকেটে মার্ক ওয়াটকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজে নামেন ক্রিস গ্রিভস। নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে রানের গতি সচল রাখেন তারা। গড়েন ৫১ রানের দারুণ এক জুটি। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে যায় দলটি।

শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন গ্রিভস। ২৭ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ২২৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ২৯ রান আসে মানজির ব্যাট থেকে। ২ রান করেন ওয়াট।

বাংলাদেশের পক্ষে ৪ ওভার বল করে ১৯ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নিয়েছেন মাহেদি। ১৭ রানের খরচায় ২টি উইকেট পান সাকিব। মোস্তাফিজের শিকারও ২টি। তবে ৩২ রান খরচ করেন তিনি।