‘খেলার ধরণে চতুর হওয়া দরকার’

মাজহার উদ্দিন

আধুনিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ ভীষণ জরুরী একটা বিষয়। প্রতিপক্ষের শক্তি, দুর্বলতা জেনে কৌশল ঠিক করার দিকে এগোয় সব দলই। প্রতি দলেই থাকেন একজন পারফরম্যান্স এনালিস্ট। তিন বছর ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে সে দায়িত্বে থাকা শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখর দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপে জানিয়েছেন আসন্ন বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের দলের হালচাল।

কোন জায়গাগুলোতে পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে উন্নতি করা যায়?

শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখর: আমার মতো (পারফরম্যান্স এনালিস্ট) একজন  প্রতিপক্ষ দলেও কিন্তু থাকে, যে বসে আমাদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করছে। কাজেই আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিপক্ষ বোলাররা কি করতে যাচ্ছে সেটা জানা। তাদের রক্ষানাত্মক বলগুলো কি হবে বা চাপের মধ্যে তারা কি বল করতে পারে, কিংবা ইনিংসের শেষ দিকে কি বল আসবে।

হতভম্ব না হয়ে খেলার মধ্যে কি আসতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে তাদের আগে থেকে ধারনা পাওয়া দরকার। এমনকি ভিন্ন কিছু এলেও আমি খেলোয়াড়দের সেটা অবহিত করি। আমি তাদের সঙ্গে একটা পরিস্থিতি তৈরি করে কথা চালাই। বলি যে আমি প্রতিপক্ষ হলে কি কি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারতাম। আমার দায়িত্ব হচ্ছে সব রকম সম্ভাবনা ওদের সামনে হাজির করা।

বাংলাদেশ ডান-বাম সমন্বয় করে ব্যাটিং পজিশন রাখতে  চায় সব সময়, বোলিংয়ের বেলাতেও এই ধরণের মোহ দেখা যায়। এটা কি তথ্যের ভিত্তিতে করা হয় নাকি প্রতিপক্ষকে ঘাবড়ে দিতে করা হয়?

শ্রীনিবাস: এটা মোটেও মোহ না। বরং এটা একটা আইডিয়া। সারা দুনিয়ায় এটা প্রয়োগ হয়। অফ স্পিনের বিরুদ্ধে বাঁহাতিকে না পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। আমাকে বলেন সিরিজের শুরুতে (বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ) টম ল্যাথাম আর হেনরি নিকোলস কেন পাঁচ-ছয়ে নামল। এটার কারণ তারা জানত অফ স্পিনার মেহেদী হাসান ইনিংসের শুরুতে বল করবে, এবং নাসুম ও সাকিব মাঝের ওভারে আসবে। কাজেই উইথ দ্য স্পিন (বল টার্ন করে ব্যাটসম্যানের দিকে আসা) বেশি খেলতে চেয়েছিল তারা।

আমার মনে হয় ক্রিকেট একটা বিবর্তনের মধ্যে আছে যেখানে দলগুলো অনুধাবন করতে পারছে একজন লেগ স্পিনারের গুরুত্ব, যে কিনা বল দুদিকেই ঘুরাতে পারে। একইসঙ্গে বাঁহাতি কাউকে মাঝের ওভারে পাঠানো যাতে প্রতিপক্ষর পরিকল্পনা একটু এলোমেলো করা যায়।

আইপিএলে আপনি বড় বড় টি-টোয়েন্টি তারকাদের সঙ্গে কাজ করেন। তাদের তুলনায় বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা কেমন?

শ্রীনিবাস: মানসিকতায় আমি বড় কোন তফাৎ দেখি না। মূলত অভিজ্ঞতায় একটা পার্থক্য আছে। তারা আমাদের থেকে অনেক বেশি চাপের মধ্যে খেলে। এবং তারা ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্তটা নিতে পারে। আমাদের সেদিক থেকে অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় বেশি।

বিশ্বকাপের প্রতিপক্ষদের নিয়ে কি এরমধ্যে বিশ্লেষণ শুরু করে দিয়েছেন? বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সুযোগ কতটা?

শ্রীনিবাস: হ্যাঁ,  আমি এরমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে অনেকদিন আগে থেকেই কতদূর যাওয়া সম্ভব তা নিয়ে ভাবছি।  আমার মনে হয় আমাদের একটা একটা ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে। প্রথমত আমাদের সামনে বাছাইপর্ব আছে, তারপর আমরা আমাদের সুযোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখব। এই সংস্করণটা অনুমান করা কঠিন। আমরা এখন খুব বেশি দূর ভাবতে চাই না।

বিশ্বকাপে ভালো খেলতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কি হবে। কোন ঘাটতি কি আছে যেটা নিয়ে কাজ করা যায়?

শ্রীনিবাস: যত দ্রুত সম্ভব কন্ডিশন বুঝে ফেলতে হবে। কারণ দুবাই, আবুধাবি এবং ওমানের কন্ডিশন কিছুটা ট্রিকি হতে পারে। আগের আইপিএলের অভিজ্ঞতায় বলতে পারে মাঠ কিছুটা বড়, আমাদের দলেও সেরকম বিগ হিটার নেই। আমাদের ফিল্ডিংয়ের গ্যাপগুলো বের করার দিকে চতুর হতে হবে, রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটে ক্ষিপ্র হতে হবে। আমার মনে হয় আমাদের একটা অলরাউন্ড বোলিং ইউনিট আছে। আমরা যদি একটা ভাল স্কোর আনতে পারে, তাহলে আমরা ভাল করতে পারব। কিন্তু সেজন্য আমাদের খেলার ধরণে অনেক চতুর হতে হবে।