কীসের ঘাটতিতে টি-টোয়েন্টিতে রানে নেই মুশফিক?

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ২৫ ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে এসেছে কেবল এক ফিফটি। এই সংস্করণে নিজেকে হারিয়ে খোঁজা এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বিশ্বকাপের আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচেও ছিলেন মলিন। মিডল অর্ডারের বড় ভরসার এই ফর্মহীনতা দলের মধ্যেও তৈরি করেছে উদ্বেগ। তার কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপে খোঁজার চেষ্টা করেছেন এর কারণ।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ২৫ ম্যাচের ২৪টিতে ব্যাট করে মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে কেবল ৩৪৬ রান। গড় মাত্র  ১৬.৪৭, টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে জরুরি যেটা সেই স্টাইকরেটও কেবল  ১০২.৬৭। শেষ ফিফটি করেছিলেন ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে। 

বিশ্বকাপে নামার আগে প্রস্তুতিমূলক তিনটি টি-টোয়েন্টিতেও হাসেনি মুশফিকের ব্যাট। ওমান 'এ' দলের বিপক্ষে তিন ফেরেন ০ রানে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন ১৩ আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ রান করে হন বোল্ড। 

বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ফাহিম মনে করেন মুশফিকের এই ছন্দহীনতা দলের জন্য উদ্বেগ,  'উদ্বেগ তো অবশ্যই। মূল প্রতিযোগিতার আগে ভাল ফর্মে থাকাটা খুব জরুরি। তাহলে আত্মবিশ্বাস থাকে। টি-টোয়েন্টি এমন একটা খেলা যেখানে শারীরিক সামর্থ্যের ব্যাপার থাকবেই কিন্তু আত্মবিশ্বাসটা বেশি জরুরি। এসব সময়ে যেটা হয় একটা ব্যাটসম্যান কিছুক্ষণ উইকেটে থাকার পর তার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে সে সুযোগ নেই, আপনাকে দ্রুত রান করতে হবে। কিছুক্ষণ রান না হলে মনে হবে আমি পিছিয়ে যাচ্ছি, এখন মারতে হবে। কাজেই তাকে স্বস্তির জায়গার বাইরে গিয়ে পারফর্ম করতে হবে। আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে পারফর্ম করা কঠিন হয়ে যায়।'

নিউজিল্যান্ড সিরিজে ব্যর্থতার পর ফর্মে ফিরতে ফাহিমের কাছে গিয়ে তিনটি সেশন করেছিলেন মুশফিক। এরপর চট্টগ্রামে 'এ' দলের হয়ে 'এইচপি' দলের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে খেলে রান করেছিলেন। প্রথমটিতে কিছুটা মন্থর খেললেও পরেরটিতে দ্রুতই রান আনতে দেখা যায় তাকে।

তবে সেগুলো ছিল আলাদা সংস্করণ। ওমানে গিয়ে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম বলে নেমেই স্কুপ করতে যান মুশফিক। বাঁহাতি স্পিনের বিপক্ষে সেই স্কুপ শট যায় কিপারের হাতে, যা দেখে বিস্মিত ফাহিমও,  'চট্টগ্রামে দুটো ওয়ানড খেলল। প্রথমটায় রান করল, পরেরটায় ভালো একটা রেটে রান করল। মনে হচ্ছিল ভালোই। একটা ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়েছিল ওমানে গিয়ে ওমান-এ দলের বিপক্ষে। ওখানে প্রথম যে শটটা খেলে সে আউট হল এটা আমার কাছে কিছুটা অগ্রহণযোগ্য। যে ব্যাটসম্যান স্বাভাবিকভাবে রান করতে পারে সে কেন প্রথম বলে ওভাবে খেলতে যাবে।'

মুশফিকের বেড়ে উঠার সময়ের এই কোচের মতে ইনিংসের শুরু আর ইনিংস তৈরি করার দিক থেকে মানসিক ফ্রেমওয়ার্কের ঘাটতি আছে এই ব্যাটসম্যানের,  'আমার মনে হয় ইনিংসটা কীভাবে শুরু করবে, কীভাবে তৈরি করবে এটা ওর একটা রুটিন করা দরকার। আমার মনে হয় সলিড একটা স্ট্রাকচারাল ইনিশিয়াল পরিকল্পনা থাকা উচিত।'

'শুরুটা নিয়ে হয়ত নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা থাকে না। শুরুটা হয়ে গেলে সে হয়ত আস্তে আস্তে ছন্দে ফিরে যা। কিন্তু একটা পরিকল্পনা, একটা প্যাটার্ন থাকা দরকার। আমার মনে হয় ওই জায়গায় একটা ঘাটতি। বিশেষ করে ওমান 'এ' দলের বিপক্ষে যে শট খেলে আউট হল দেখে মনে হচ্ছিল যেন একটা ঘাটতি আছে।'

বিশ্বকাপে ওমানের উইকেট হবে ব্যাটিং বান্ধব। মুশফিকের জন্য আশার কথা প্রথম পর্বে তার সামনে আছে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ। কিন্তু ফাহিম মনে করেন প্রতিপক্ষ নয়, মনের বাধাই আসল শত্রু,  'প্রতিপক্ষকে আমার ঠিক প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে না। নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ।'

বিশ্বকাপেও যদি মুশফিকের খারাপ ফর্ম বহাল থাকে তা বড় ধরণের দুশ্চিন্তার কারণ হবে বাংলাদেশের। ৪ ম্যাচের অন্তত দুটিতে মুশফিকের কাছ থেকে বড় কিছু চান ফাহিম,  'অবশ্যই চার নম্বরে যদি কেউ ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয় সেটা তো দলের উপর একটা চাপ। এখন তো সে ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলছে। কাজেই এটা প্রত্যাশিত যে চারটা ইনিংসের মধ্যে দুটোতেই তার বড় অবদান থাকা উচিত। এটা যদি না থাকে তা দলের উপর চাপ তৈরি করবে।'