শিক্ষার্থীদের আটকে ক্ষতিপূরণের নামে মুক্তিপণ চেয়েছে সিটি ইউনিভার্সিটি: ড্যাফোডিল উপাচার্য

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার

সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনের নির্দেশে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ক্ষতিপূরণের নামে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবির।

দুই ইউনিভার্সিটির সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আজ মঙ্গলবার আশুলিয়ার খাগান এলাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি করেন উপাচার্য।

তিনি বলেন, 'গত রোববার সন্ধ্যায় সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেলে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয় এবং ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের আটক করে জিম্মি করা হয়।'

উপাচার্য আরও বলেন, 'পরে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে তাদের সহপাঠীদের উদ্ধারের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরদিন সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনের নির্দেশে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রাখা হয়। ক্ষতিপূরণের নামে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।'

'বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'রোববার সিটি ইউনিভার্সিটির অফিসে নাকি দেড় কোটি টাকা নগদ জমা ছিল। এর মধ্য দিয়ে এটা প্রতীয়মান হয় যে তারা পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়ে টাকা চুরিসহ অন্যান্য দায়ভার নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছে।'

তিনি জানান, হামলায় আহত ড্যাফোডিলের ৬ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, ১৫ জনের অবস্থা সংকাটপন্ন। আহত প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

'আমাদের কাছে সিসিটিভির ফুটেজ আছে, সব কিছু বিশ্লেষণ করা হবে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ইউজিসিও বলেছে তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করবে,' বলেন অধ্যাপক ড. এম আর কবির।

রোববার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার খাগান এলাকায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যার পর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা 'ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেলে'র পাশে বসেছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের একজন থুতু ফেললে তা সেখান দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন এমন এক ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীর গায়ে পড়ে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

পরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ভাড়া করা ওই বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আসিফ ইকবালকে প্রধান করে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে কেউ মামলা করেনি বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আরাফাত ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার সিটি ইউনিভার্সিটি ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থী-শূন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে হামলার ক্ষতচিহ্ন। পুড়িয়ে দেওয়া বাস, প্রাইভেটকার, প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়সহ বিভিন্ন কক্ষের ভাঙচুর হওয়া আসবাবপত্র, জানলার কাঁচ, মূল ফটক ও সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

গতকাল সোমবার সকাল থেকেই সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করেন। পরে ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণার পর প্রশাসনের নির্দেশে সন্ধ্যার মধ্যেই সব শিক্ষার্থী হল থেকে চলে যান।

সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক আবু জায়েদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হামলাকারীদের আচরণ শিক্ষার্থীসুলভ ছিল না। তারা আমার কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সব কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট করেছে। আমাদের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ৫ শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর।'