চাকসু নির্বাচন: প্রার্থীদের সৃজনশীল প্রচারণা নজর কাড়ছে ভোটারদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, চবি

আর আট দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। পূজার ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খুলতেই শুরু হয়েছে প্রার্থীদের পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা, ছুটছেন ভোটারদের কাছে। আর সেই প্রচারণায় যোগ হয়েছে সৃজনশীল কৌশল।

ভোটারদের আকর্ষণে কেউ বানাচ্ছেন অভিনব লিফলেট, কেউ হ্যান্ডবিল, আবার কেউ তৈরি করছেন অনন্য নকশার প্রচারণাপত্র। প্রার্থীদের মধ্যে যেন চলছে সৃজনশীলতার প্রতিযোগিতা। এসব প্রচারপত্রে ভরে উঠেছে ক্যাম্পাস, তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

চাকসু ও হল সংসদের মোট ৯০৮ জন প্রার্থীর ভিড়ে নিজেকে আলাদা করে চিনিয়ে দিতে অনেকেই বেছে নিয়েছেন অভিনব কৌশল। কেউ নিজের ব্যালট নম্বরের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করছেন প্রচারপত্র, কেউ বা নিজের প্রতীক বা প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন নকশায়। কেউ তৈরি করছেন পাসপোর্ট বা গ্লোবের আদলে লিফলেট, আবার কেউ প্রচারণাপত্রে যুক্ত করছেন ইশতেহারের কিউআর কোড বা ওয়েবসাইটের লিংক।

এছাড়া অনেক প্রার্থী নিজেদের প্রচারণায় ব্যবহার করছেন বিভিন্ন প্রতীকী উপাদান। কেউ বাংলাদেশের মানচিত্রের আদলে লিফলেট বানাচ্ছেন, কেউ আবার ফিলিস্তিনের পতাকা ও প্রতীক ব্যবহার করে জানাচ্ছেন সংহতি। অন্যরা বেছে নিয়েছেন রাইফেল, টাকা, ডলার, হাতুড়ি, হাতপাখা, চায়ের কাপ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর আকৃতি এমন নানা সৃজনশীল ডিজাইন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে ভোটাররাও এসব প্রচারণাকে সাদরে গ্রহণ করছেন। তাদের মতে, এই সৃজনশীলতার ঢেউ ক্যাম্পাসে এনেছে এক নতুন উদ্দীপনা।

ফারসি বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, প্রার্থীরা নানাভাবে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছে এসব দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন পর এই চাকসু নির্বাচন হচ্ছে এই সৃজনশীল প্রচারণা আমরা দারুণভাবে উপভোগ করছি।

চাকসু নির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী মীর সুমাইয়া আহমেদ চার ভাষায়— চাকমা, মারমা, চাটগাঁইয়া ও বাংলায় প্রচারপত্র তৈরি করেছেন।

ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহরিয়ান আহমেদ অনিম বানিয়েছেন গ্লোব আকৃতির লিফলেট।

ছাত্রদল প্যানেলের নির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী মো. মাহাবুবুল হাসান তৈরি করেছেন একে-৪৭ রাইফেলের আদলে প্রচারণা কার্ড, কারণ তার ব্যালট নম্বর ৪৭। শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের এজিএস প্রার্থী কাজী তাফহীমুল হক ছাপিয়েছেন ডলারের আদলে লিফলেট।

একই প্যানেলের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান তৈরি করেছেন হাতুড়ি আকৃতির প্রচারপত্র, আর 'বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য' প্যানেলের সহ যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক প্রার্থী শহিদুল ইসলাম সামি বানিয়েছেন বাসের আকৃতির লিফলেট যা তার প্রতিশ্রুত ক্যাম্পাস ও শহরের মধ্যে চক্রাকার বাস সেবার প্রতীক।

'সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য' প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী সাঈদ মোহাম্মদ মুশফিক হাসান বানিয়েছেন হাতপাখার আদলে প্রচারপত্র। শাহজালাল হলের জিএস প্রার্থী মো. রায়হান চৌধুরী বানিয়েছেন বাংলাদেশের মানচিত্রের আদলে, আর শহীদ আবদুর রব হলের জিএস প্রার্থী মনির হোসেন ব্যবহার করেছেন ফিলিস্তিনের মানচিত্রের প্রতিরূপ।

অন্যদিকে, সোহরাওয়ার্দী হলের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর আদলে লিফলেট।

নিজের সৃজনশীল প্রচারণা নিয়ে শহিদুল ইসলাম সামি বলেন, 'আমি চাইনি গতানুগতিক কোনো লিফলেট করতে। এমন কিছু দিতে চেয়েছি, যা শিক্ষার্থীরা সংগ্রহ করে রাখবে। আমার প্রচারণাপত্রের বাস আকৃতি আসলে চক্রাকার বাস সেবার প্রতীক, যা আমি নির্বাচিত হলে চালু করতে চাই।'

শাহরিয়ান আহমেদ অনিম বলেন, 'আমি প্রচারণায় ফিলিস্তিনি প্রতীক ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং বৈশ্বিক বিষয়গুলোতেও সচেতন হয়।'

ছাত্রদল মনোনীত নির্বাহী সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুল হাসান বলেন, 'নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৮০ জনেরও বেশি প্রার্থী, কিন্তু নির্বাচিত হবে মাত্র পাঁচজন। যেহেতু প্রতিটি ভোটার ৪০টি ভোট দিতে পারবেন, তাই ব্যালট নম্বর মনে রাখা কঠিন। আমার নম্বর ৪৭ এই কারণে অনেকেই আমার পোস্টে একে-৪৭ লিখে কমেন্ট করত। সেখান থেকেই এসেছে এই ডিজাইনের ধারণা।'

আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন।