বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতাও দমাতে পারেনি তাদের

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে শরীর। এই বয়সে কারো সাহায্য ছাড়া কয়েক কদম ও চলতে পারেন না। কিন্তু বয়স তাদের ভোট দেওয়ার তীব্র ইচ্ছেকে দমাতে পারেনি। তাই সকাল হতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দিতে তারা হাজির হন ভোটকেন্দ্রে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এমনই সব দৃশ্যের দেখা মিলেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রগুলোতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভোটাররা। তাদের মধ্যে প্রবীণ ভোটাররাও ছিলেন, কেউ অশীতিপর কেউবা শতবর্ষী।

তেমনই এক ভোটার নারায়ণগঞ্জের সিরাজ মিয়া। বয়স ১০৭ পেরোলেও ভোট দিতে তার আগ্রহ এতোটুকুও কমেনি। তাই সাত-সকালেই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের দারুচ্ছুন্নাহ কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিতে যান তিনি।

এ সময় কেন্দ্রে থাকা দুজন আনসার সদস্য সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান। এরপর গোপন বুথে ঢুকে ভোট দেন সিরাজ মিয়া। ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘ভোট দিতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।’

কুমিল্লার হাফিজুর রহমানের বয়স ১১০ বছর। এই বয়সে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় লাঠিতে ভর দিয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে যান তিনি। তাকে সহযোগিতা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এগিয়ে যান।

রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা ৯০ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগম কিছুদিন ধরেই অসুস্থ। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতাও দমাতে পারেনি তাকে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে তিনি ভোট দেন।

মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গতবার আমি ভোট দিতে পারিনি। তাই এবার খুব সকালে ভোট দিতে এসেছি।’

বয়স ও অসুস্থতা সত্ত্বেও কেন ভোট দিতে এসেছেন জানতে চাইলে মনোয়ারা বলেন, ‘আমরা যোগ্য নেতৃত্ব চাই, যারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। ভোট না দিলে তা কীভাবে সম্ভব হবে?’

মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে ছিলেন মেয়ে নাহিদা আক্তার সিলভি ও নাতি।

সিলভি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মা আগের নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেননি, তাই এবার নির্বাচন নিয়ে তিনি ভীষণ আগ্রহী ছিলেন। আমিও খুব উৎসাহী ছিলাম। এতোটাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছি যে সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। তাই সকালেই মাকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে চলে এসেছি।’

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্রে দেখা যায় শতবর্ষী জমিরন নেসাকে। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও অদম্য তার ইচ্ছেশক্তি। তাই মেয়ে ও নাতির সঙ্গে সকাল সকালই ভোট দিতে চলে যান জমিরন।

তিনি বলেন, ‘ভোট দিতে পেরে আমি খুশি। এই বয়সেও আল্লাহ যে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত এনেছেন, তাতে লাখো শুকরিয়া।’

সময় তখন সকাল ৯টা। হালুয়াঘাটের ধারা ইউনিয়নের ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে লাইনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। এমন সময়ই দেখা যায় শতবর্ষী তৈয়বজানকে। নিজে চলাফেরা করতে পারেন না বলে দুই নাতির কাঁধে চড়ে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

তৈয়বজান জানান, নিজ হাতে নিজের পছন্দের প্রার্থীকেই তিনি ভোট দিয়েছেন এবং ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।

নির্বাচনী কেন্দ্রে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি তরুণ ভোটারদেরও উৎসাহিত করছে।