ঢাকা-৫

দখল-সন্ত্রাস-মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রাবাড়ী-ডেমরায় ভোটের লড়াই

শরীফ এম শফিক
শরীফ এম শফিক
সাদী মুহাম্মাদ আলোক
সাদী মুহাম্মাদ আলোক

যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকার পূর্ব সীমান্তের ঢাকা-৫ আসন বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম। বিভিন্ন দলের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মিছিলে সরব কোনাপাড়া, সারুলিয়া, ডেমরা কলেজ, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকা।

ভোটাররা জানান, এলাকায় শত শত ব্যানার, বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। মিছিল-মিটিং হচ্ছে। তবুও আগের মতো নির্বাচনী আমেজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে, নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের অনেক আশা। তারা মনে করেন, এলাকার গ্যাস ও পানি সংকট, দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, পরিবেশ দূষণ, যানজট, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যসহ অন্যান্য সমস্যা নির্বাচনের পর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

ডেমরা আমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুব খারাপ। এছাড়া ময়লা-আবর্জনায় ভরা পুরো এলাকা। সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে। সন্ধ্যা হলে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মাদকের বিস্তার ঘটেছে এলাকায়, কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’

প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে গিয়ে এলাকার সমস্যাগুলো দূর করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচনের পর এসব সমস্যা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান (ছদ্মনাম) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের পাড়ার মোড়ে আগে ভোটের সময় সারাদিন মানুষজন আড্ডা দিত। লোক দাঁড়ানোর জায়গা হতো না। এবার অবশ্য তেমন হইচই নেই। প্রচার-প্রচারণা চলছে, কিন্তু ভোটাররা চুপচাপ আছেন। তারা তাদের মতো করে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেবেন।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড মিলে গঠিত ঢাকা-৫ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। গত নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৪ জন। এবার ভোটার কমেছে প্রায় ৭০ হাজার ৭৬৮ জন।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন এলাকার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে তার পরিকল্পনা তুলে ধরে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে আমরা তরুণদের স্বাবলম্বী করব। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করব। এছাড়া এলাকার বন্ধ থাকা দুটি পাটকল পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।’

‘দুর্নীতি, লুটপাট ও সিন্ডিকেট চিরতরে বন্ধ করব। মশা নিধন, গ্যাসের সমস্যা সমাধান ও পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্কের ব্যবস্থা করব। এলাকায় ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে,’ বলেন তিনি।

এছাড়া দখল ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে পুরো এলাকায় তিনি শুদ্ধি অভিযান চালানোর অঙ্গীকার করেছেন।

বিএনপি প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে কামাল হোসেনের দাবি, তারা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। 

তার মতে, জনগণ এখন আর লুটপাটকারী বা দখলদারদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ‘ঢাকাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন,’ আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী মো. নবী উল্লা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হিংসা বা বিবাদে না জড়িয়ে সুস্থ ধারার রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এবং মনে করি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হব।’

‘আমি এখানকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এখানে রাজনীতি করছি। কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। তরুণ থেকে মুরুব্বি—সব প্রজন্মের সঙ্গে আমার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত হৃদ্যতা রয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে সুন্দর ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন,’ বলেন তিনি।

ঢাকা-৫ আসনের প্রধান সমস্যা হিসেবে জলাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করেছেন নবী উল্লা। এর কারণ হিসেবে তিনি বড় বড় হাউজিং কোম্পানি কর্তৃক অবৈধভাবে জলাশয় ভরাট করাকে দায়ী করেন।

নির্বাচিত হলে তিনি এ এলাকার দখলকৃত জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং মাদক ও সন্ত্রাস বন্ধের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

এলাকার মানুষ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। এবার সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ দেখে সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন নবী উল্লা।

এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইবরাহীম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা, মুক্তিজোটের মো. তাইফুর রহমান রাহী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শাহিনুর আক্তার সুমি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মো. হুমায়ুন কবির, জাতীয় পার্টি-জেপির মীর আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. গোলাম আজম ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাইফুল আলম।