শফিকের সেঞ্চুরি, দারুণ ইনিংসে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাবর
টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ের টানা ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে অবশেষে রানের দেখা পেল পাকিস্তান। পোর্ট অব স্পেনে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানপাহাড়ের জবাবে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা। আবদুল্লাহ শফিকের অপরাজিত সেঞ্চুরি আর বাবর আজমের অনবদ্য ইনিংসের ওপর ভর করে স্বাগতিকদের চালকের আসন থেকে হটিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।
দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৬৬ রান। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩৪৪ রানের চেয়ে এখনও ৭৮ রানে পিছিয়ে আছে তারা, হাতে রয়েছে ৮টি উইকেট। আবদুল্লাহ শফিক ১০৭ রানে এবং বাবর আজম ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।
এর আগে ৩ উইকেটে ২৩৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জাস্টিন গ্রিভস (৭৩) এবং রোস্টন চেসের (৭০) চমৎকার ফিফটিতে ভর করে দলীয় সংগ্রহকে ৩৪৪ রান পর্যন্ত নিয়ে যায় তারা। পাকিস্তানের পক্ষে সাজিদ খান ৪টি উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তরুণ আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শফিক। কেমার রোচের ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণাত্মক সূচনা করেন আওয়াইস। তবে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে আলিসান শুরুর পর। শামার জোসেফের শর্ট বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার ইমাম-উল-হক। এরপর শফিকের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আওয়াইস। রোমাঞ্চকর ফিফটি পূর্ণ করার পর ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন আওয়াইস।
আওয়াইস ফেরার পর ক্রিজে শফিকের সঙ্গে যোগ দেন বাবর আজম। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের ওপর পাকিস্তানি জুটির নিরঙ্কুশ আধিপত্য। দুজনে মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ১৬৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি, যা দিন শেষে পাকিস্তানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়।
দিনের একবারে শেষভাগে এসে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আবদুল্লাহ শফিক। ২০২৪ সালের পর এটিই তার প্রথম শতক। ধৈর্য আর চমৎকার শট নির্বাচনের মিশেলে গড়া এই ইনিংসের মাধ্যমে রানে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন এই ওপেনার।
অন্যদিকে, বেশ কিছুদিন ধরে রানখরায় ভোগা বাবর আজমও ছিলেন নিজের সেরা ছন্দে। পেসার জেইডেন সিলসের একের পর এক ডেলিভারি বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় দেন সাবেক এই অধিনায়ক। দিনের শেষ এক ঘণ্টা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সিঙ্গেলস বদলে স্ট্রাইক ধরে রাখেন তিনি। নিজের শতক থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে থেকে অপরাজিত আছেন তিনি। ৪ বছর পর টেস্ট সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা বাবরের দায়িত্বশীল ব্যাটিংই এখন পাকিস্তানকে বড় লিডের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।