মোসাদ্দেক ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি বোলিং অলরাউন্ডার: মিরাজ
অফ স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং- সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের খেলার ধরণ প্রায় একই। ধরণের মিল থাকায় আগের প্রধান নির্বাচক মোসাদ্দেককে স্কোয়াডে ঠাঁই দিতে পারছেন না বলেও ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ মনে করেন তাদের দুজনের ভূমিকা আলাদা। একসঙ্গেই আগে জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করায় প্রায় সাড়ে তিন বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ফিরেছেন মোসাদ্দেক। তাকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা আছে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও।
মিরাজ থাকলে মোসাদ্দেককে রাখা যায় কীভাবে এই প্রশ্ন উঠিয়েছিলেন আগের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তার সময়ে তিনি মোসাদ্দেককে তাই উপেক্ষা করে গেছেন এই ব্যাখ্যা দিয়ে। হাবিবুল বাশার সুমন প্রধান নির্বাচক হয়ে মোসাদ্দেককে ফিরিয়েছেন।
এবার তার পুরনো প্রসঙ্গও এলো অনুমিতভাবে। দুজনের খেলার ধরণের কথা মনে করিয়ে দিতে মিরাজ জানালেন তার আর মোসাদ্দেকের ভিন্নতা, ‘আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেকদিন খেলেছি। ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা খেলেছি একসঙ্গে। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনো ভিন্ন ইস্যু নয়। মোসাদ্দেক তার ভূমিকা পালন করবে, আমি আমার কাজ করব। মোসাদ্দেক হলো ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি হলো বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের ভূমিকাটা আলাদা।’
সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সে মোসাদ্দেককে উপেক্ষা করার উপায় ছিলো না। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের বিগত মৌসুমে আবাহনী লিমিটেডকে শিরোপা জেতাতে ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৪৮৭ রান করেছিলেন। বল হাতে নিয়েছিলেন ৩০ উইকেট। চলতি লিগেও দারুণ করছিলেন। ৭৭.৫০ আফ ১২৯.১৬ স্ট্রাইকরেটে করেন ৩১০ রান। সেই সঙ্গে অফ স্পিনে নেন ১২ উইকেট।
অধিনায়ক হিসেবে মোসাদ্দেকের এই ছন্দ জাতীয় দলেও চান মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয়, সে যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য অনেক বিরাট সহায়তা হবে। দিন শেষে আমরা সবাই চিন্তা করি যে, দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় এবং আমার কাছে মনে হয়, আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী তাকে নিয়ে, যেভাবে সে ঘরোয়াতে ভালো পারফর্ম করেছে। যদি সুযোগ আসে, ভালো করবে।’