আবারো সুপার ওভারে ম্যাচ, আবারো ভারতের জয়

স্পোর্টস ডেস্ক

আগের ম্যাচেই সুপার ওভারের রোমাঞ্চে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় পেয়েছিল ভারত। তাতে নিশ্চিত হয় নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। দুই দিন না গড়াতেই ফের সুপার ওভারে ম্যাচ। আবারো ভারতের জয়। সুপার ওভারের গেরো যেন খুলতেই পারছে না কিউইরা!

ওয়েলিংটনে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করে ভারত। জবাবে ইনিংসের শেষ ওভারে বিপর্যয়ে পড়ে ৭ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে থামে নিউজিল্যান্ডও। ২০তম ওভারে ৬ রান তুলতে তারা হারায় ৪ উইকেট! এরপর সুপার ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় সফরকারীরা।

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে ১৩ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম দুই বলে ছয়-চার হাঁকিয়ে ১০ রান নেন লোকেশ রাহুল। এরপর আবার বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে আউট হয়ে যান তিনি। তবে অধিনায়ক বিরাট কোহলির দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয় ভারতই।

অথচ মনে হচ্ছিল, সহজেই সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটা জিতে নিচ্ছে নিউজিল্যান্ড। মূল খেলার শেষ ওভারে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ৭ রান। হাতে ছিল ৭ উইকেট। সবচেয়ে বড় কথা, উইকেটে ছিলেন দুই সেট ব্যাটসম্যান টিম সেইফার্ট ও রস টেইলর। কিন্তু শেষ ওভারে ৪ উইকেট হারায় দলটি। ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্টো ম্যাচ খুইয়ে বসে তারা।

তৃতীয় ম্যাচেও একই অবস্থা হয়েছিল দলটির। টেইলর ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের মতো ব্যাটসম্যান উইকেটে থাকার পরও শেষ ৪ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। এরপর সুপার ওভারে হেরে বসে দলটি। 

ভারতের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ২২ রানেই মার্টিন গাপটিলকে হারায় নিউজিল্যান্ড। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সেইফার্টকে নিয়ে ৭৪ রানের জুটি গড়ে তোলেন আরেক ওপেনার কলিন মুনরো। তাতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে নিউজিল্যান্ড। এই জুটি ভেঙে দ্রুত ২টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে ভারত। মুনরো রানআউট হওয়ার পর টম ব্রুসকে বোল্ড করে দেন যুজবেন্দ্র চাহাল। রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।

এরপর অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান টেইলরকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সেইফার্ট। গড়েন ৬২ রানের জুটি। তাতেই জয়ের খুব কাছাকাছি চলে আসে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু জয় থেকে ৭ রান দূরে থাকতে হঠাৎ তালগোল পাকিয়ে ফেলে তারা। ফলে শেষ দিকে জমে ওঠে লড়াই। কিন্তু রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আবারো হৃদয় ভেঙেছে স্বাগতিকদের।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন মুনরো। ৪৭ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৩৯ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন সেইফার্ট। নিজের ইনিংস ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কিউই বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ভারত। কিউইদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। সপ্তম উইকেটে মানিশ পাণ্ডের সঙ্গে শারদুল ঠাকুরের করা ৪৩ রানের জুটিটিই ছিল ইনিংসের সর্বোচ্চ। তাদের কল্যাণে লড়াইয়ের পুঁজি পায় দলটি।

ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন মানিশ। ৩৬ বলে ৩টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। এছাড়া ওপেনার লোকেশ রাহুল ৩৯ ও আটে নামা শারদুল ২০ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ২৬ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান ইশ সোধি। ৪১ রান দিয়ে হামিশ বেনেটের শিকার ২টি।

কাঁধের চোটের কারণে এ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের একাদশে ছিলেন না অধিনায়ক উইলিয়ামসন। তবে তার চোট তেমন গুরুতর নয়। বিশ্রামে দেওয়া হয় ভারতের তারকা ওপেনার রোহিত শর্মাকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৬৫/৮ (রাহুল ৩৯, স্যামসন ৮, কোহলি ১১, আইয়ার ১, দুবে ১২, মানিশ ৫০*, ওয়াশিংটন ০, শারদুল ২০, চাহাল ১, সাইনি ১১*; সাউদি ১/২৮, কাগেলেইন ১/৩৯, স্যান্টনার ১/২৬, বেনেট ২/৪১, সোধি ৩/২৬)

নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬৫/৭ (গাপটিল ৪, মুনরো ৬৪, সেইফার্ট ৫৭, ব্রুস ০, টেইলর ২৪, মিচেল ৪, স্যান্টনার ২, কাগেলেইন ০*; শারদুল ২/৩৩, সাইনি ০/২৯, বুমরাহ ১/২০, চাহাল ১/৩৮, ওয়াশিংটন ০/২৪, দুবে ০/১৪)।

ফল: ম্যাচ টাই, সুপার ওভারে ভারত জয়ী।

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে।