পাকিস্তানের অবস্থা তথৈবচ

স্পোর্টস ডেস্ক

এই টেস্টের ফল বোধহয় এক্ষুনি লিখে ফেলা যায়। ডেভিড ওয়ার্নারের রেকর্ড ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পর্বতের চূড়ায় উঠে ইনিংস ছেড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাব দিতে গিয়ে পাকিস্তান মিচেল স্টার্কের সামনেই প্রায় অসহায়। একশোতে যাওয়ার আগেই ছয় উইকেট খুইয়ে ধুঁকছে আজহার আলির দল।

অ্যাডিলেডে গোলাপি বলের টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাট করতে গিয়ে পাকিস্তানি বোলারদের দুঃস্বপ্ন উপহার দেন ডেভিড ওয়ার্নার আর মার্নাশ লেবুশানে। গোলাপি বলের টেস্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় ট্রিবল সেঞ্চুরি ও সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়েন ৩৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়ার্নার। লেবুশানে করেন ১৬২ রান। ফলে ৩ উইকেটেই ৫৮৯ রানের চূড়ায় পৌঁছে যায় অসিরা। ওয়ার্নারের সামনে হাতছানি ছিল ব্রায়ান লারার চারশো রানের রেকর্ড ভেঙে ফেলার। কিন্তু সে পথে যায়নি তার দল। দলের জেতার কথা ভেবে ইনিংস ঘোষণা করেন টিম পেইন।

দিনশেষে ৬ উইকেটে ৯৬ রান তুলে পাকিস্তানিরা আছে ফলোঅন এড়ানোর কঠিন লড়াইয়ে। এখনো ফলোঅন এড়াতেই তাদের চাই আরও ২৯৩ রান।

ওয়ার্নার এদিন ম্যারাথন টেস্ট ইনিংসও খেলেছেন ওয়ানডের গতিতে। মাত্র ৪১৮ বল খেলেই করেন ৩৩৫, মেরেছে ৩৯ চার আর ১ ছক্কা। তিনে নামা লেবুশানে ২২ চারে করেন ১৬২ রান। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৩৬১ রান। ওয়ার্নার এরপর স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে ১২১ আর ম্যাথু ওয়েডের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের আরও জুটি জুটি গড়েন।

৫৮৯ রানের পর্বত সামনে দেখে ধসে পড়ে পাকিস্তানের ইনিংস। শুরুতেই ইমামুল হক আর আজহার আলিকে তুলে নেন মিচেল স্টার্ক আর প্যাট কামিন্স। শান মাসুদকে ফেরান জস হ্যাইজেলউড।

আসাদ শফিক, ইফতেখার আহমেদ, মোহাম্মদ রিজওয়ানদের গতির তোপে উড়িয়ে দেন স্টার্ক। একপ্রান্তে টিকে কেবল লড়াই করে যাচ্ছেন বাবর আজম।

পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান অপরাজিত আছেন ৪৩ রানে। কিন্তু ম্যাচের যা পরিস্থিতি, কতক্ষণ আর তিনি একা টানবেন বলা মুশকিল। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: (আগের দিন ৩০২/১) ১২৭ ওভারে ৫৮৯/৩ ডি. (ওয়ার্নার ৩৩৫*, বার্নস ৪, লাবুশেন ১৬২, স্মিথ ৩৬, ওয়েড ৩৮*; আব্বাস 0/১০০, শাহিন আফ্রিদি ৩/৮৮, মুসা ০/১১৪, ইয়াসির ০/১৯৭, ইফতিখার ০/৭৫, আজহার ০/৯)
 
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ৩৫ ওভারে ৯৬/৬ (শান মাসুদ ১৯, ইমাম-উল-হক ২, আজহার ৯, বাবর ৪৩*, আসাদ ৯, ইফতিখার ১০, রিজওয়ান ০, ইয়াসির ৪*; স্টার্ক ৪/২২, কামিন্স ১/৪৫, হেইজেলউড ১/২৯)