সৌম্যের রেকর্ডে তোলপাড় করার দিনে চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তানবীর হায়দারে ঝড়ো সেঞ্চুরিতে তিনশো ছাড়িয়ে আবাহনীকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি। চ্যাম্পিয়ন হতে জিততেই হবে এমন চ্যালেঞ্জে নেমে  সৌম্য সরকার ছারখার করে দিয়েছেন শেখ জামালের বোলারদের। লিস্ট-এ ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডের দিনে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী লিমিটেড।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ৩১৭ রান করেছিল আবাহনী। জবাবে সৌম্যের ১৫৩ বলে ২০৮, আর জহুরুল ইসলাম অমির ১২৮ বলে ১০০ রানে ১৭ বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটে জিতেছে মোসাদ্দেক হোসেনের দল।

শিরোপার দৌড়ে থাকা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ দিনের আরেক ম্যাচে ৮৮ রানে জিতেছে। সব রাউন্ড শেষে দুদলেরই পয়েন্ট সমান ২৬, হেড-টু-হেডও সমান। কিন্তু রানরেটে এগিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে আবাহনী।

এদিন ৩১৮ রান তাড়ায় শুরু থেকেই উত্তাল হয়ে উঠে সৌম্যের ব্যাট। ৭৮ বলে তিনি পৌঁছে যান তিন অঙ্কে। তখনই মেরে দিয়েছেন ৮ ছক্কা। সেঞ্চুরির পর আরও খুনে হয়ে উঠে তার ব্যাট। তাইজুল ইসলাম, মিনহাজুল আবেদন আফ্রিদিদের পিটিয়ে মারতে থাকেন পর পর ছক্কা। তাইজুলকে এক ওভারে তিন ছক্কা মেরে ১০৩ বলে স্পর্শ করেন দেড়শো রান। ততক্ষণে পেরিয়ে যান লিস্ট-এ ক্রিকেটে এক ইনিংসে বাংলাদেশিদের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও।

পরে তার কাছে ধরা দেয় আরেক রেকর্ড। লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে করে ফেলেন ডাবল সেঞ্চুরি। পেরিয়ে যান রকিবুল হাসানের ১৯০ রানের আগের রেকর্ড।

উদ্বোধনী জুটিতে জহুরুল ইসলামের সঙ্গে ৩১২ রানের জুটিতেও হয়েছে রেকর্ড। লিস্ট-এ ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের যেকোনো উইকেট জুটিতেই তিনশো রানের নজির নেই আর একটিও।  সৌম্যের তাণ্ডবে ম্লান হলেও এদিন জহুরুলও খেলেছেন দারুণ। ১২৮ বলে ১০০ রান করে আউট হন তিনি।

এর আগে ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া শেখ জামাল ধানমন্ডি অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তানবীর হায়দারের ব্যাটে। ছয়ে নেমে ১১৫ বলে ১৩২ রান করেন তানবীর। তাতে ৩১৭ রানের লড়াইয়ের পূঁজি পেয়েছিল শেখ জামাল। কিন্তু সৌম্যের রুদ্রমূর্তিতে জ্বলে উঠার দিনেই খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে ওই রান।