ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য সংসদে যাচ্ছি না: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা শুনেছি আগামী ১২ মার্চ নতুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফ্যাসিস্টের দোসর, ফ্যাসিস্টের লেজুর রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দেবেন। আমি স্পষ্ট করে বলছি—কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি না।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। সেই রায়ের ভিত্তিতে যে সংস্কারের পক্ষে জনগণ মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মাঠে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন একটি নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের পথে যাওয়ার কথা। ফ্যাসিবাদ যে ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে গিয়েছে, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে তৈরি করা, বিনির্মাণ করার লড়াই আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াই কোনো দলের পক্ষে বা কোনো সরকারের পক্ষে এককভাবে করা সম্ভব নয়।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সরকারি দলে যারা আছে আমরা অবশ্যই তাদের সমালোচনা করব। সরকারে যারা থাকে তাদের দায়িত্ব বেশি, সমালোচনা মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়। নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে হয়, সংশোধন করতে হয়। গণতন্ত্র কখনোই সম্ভব না, যদি শক্তিশালী বিরোধীদল, বিরোধী মত না থাকে।
‘বিগত ১৬ বছর বিরোধী মত, বিরোধী দল বলে কোনো কিছু বাংলাদেশে ছিল না। আমরা যখন ইলেকশনে মানুষের কাছে গিয়েছি, সারা বাংলাদেশের মানুষ আমাদের কাছে এটাই বলেছে—ওসমান হাদি হত্যার বিচার যেন এই মাটিতে হয়। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ভারতের মাটিতে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে আমরা শুনেছি। আমরা দাবি জানাব—অবিলম্বে বাংলাদেশের মাটিতে তাদের এনে যেন বিচার কার্যকর করা হয়,’ যোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা দেখেছি—ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড তারা উদ্বোধন করেছেন তাদের ইশতেহার অনুযায়ী তাদেরকে সাধুবাদ। কিন্তু আমরা পাশাপাশি বলেছিলাম—যদি দুর্নীতি বন্ধ না হয়, যদি চাঁদাবাজি বন্ধ না হয়, যদি দখলদারত্ব বন্ধ না হয়, যদি ঋণ খেলাপিদের সংসদে এবং সরকারের ঠাঁই দেওয়া হয়, এসব ফ্যামিলি কার্ড কেবল হচ্ছে চোখ ধাঁধানো একটা কর্মসূচি। এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আহ্বান—যেসব ঋণখেলাপি, লুটেরা, দুর্নীতিবাজদের সংসদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, নমিনেশন বিক্রি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন বাংলাদেশ সরকার, সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেয়। তারা যেন দ্রুত দেশের টাকা ব্যাংকে ফিরিয়ে দেন।