চাঁদাবাজি মামলায় এনসিপি নেতাসহ কারাগারে ২

By নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও
4 January 2026, 15:44 PM

দিনাজপুরে চাঁদাবাজির মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতাসহ ২ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার বিকেলে আদালত এ রায় দেন।

আসামিরা হলেন—ধানতলার প্রয়াত শামসের আলীর ছেলে এম এ তাফসির (৩৩) ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ভোড়া আবদুল করিমের ছেলে মঞ্জুরুল আলম (৩৬)।

এম এ তাফসির এনসিপির দিনাজপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব এবং বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক।

আদালতের জিআরও ও পুলিশ উপপরিদর্শক গোপাল চন্দ্র রায় দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তানসির রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মঞ্জুরুল আলমসহ কয়েকজন লোহার রড ও স্টিলের পাইপ নিয়ে বোচাগঞ্জের এক বাড়িতে প্রবেশ করেন।

বাড়িটিতে থাকতেন দুই ভাই সন্তোষ কুমার রায় ও পরিমল চন্দ্র রায়। সন্তোষ তার ঘর থেকে বের হয়ে পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের স্থানীয় প্রশাসনের সদস্য বলে পরিচয় দেয়।

এ সময় পরিমলকে না পেয়ে হামলাকারীদের একজন সন্তোষের গলা চেপে ধরে মারধর শুরু করে।

এরপর তারা ট্রাংকের চাবি ও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং দাবি পূরণ না হলে পরিমলকে হত্যা করার হুমকি দেয়।

সন্তোষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মঞ্জুরুল আলমকে আটক করে, তবে অন্যরা পালিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর এম এ তাফসির ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয়রা তাকেও আটক করে। মঞ্জুরুল নাকি স্বীকার করেছেন, তাফসিরের নির্দেশেই তারা পরিমলের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

পরে রাতেই দুজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রোববার থানায় মামলা করেন সন্তোষ। মামলায় আটক দুজনসহ আরও সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয় বলে জানান ওসি।

এ বিষয়ে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক সামসুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, 'তাফসির জেলা কমিটির সদস্য হলেও মূলত তিনি উপজেলা পর্যায়ে কাজ করতেন।'

তিনি আরও বলেন, 'ঘটনাটি নিয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী তাফসিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'