আর একটু এদিক-সেদিক হলেই মারা যেতাম, তেহরানে গুলির মুখে বেঁচে ফেরা কিয়ারাশ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

'হঠাৎ গুলির শব্দ শুনলাম। পাশে তাকিয়ে দেখি একসঙ্গে তিনজন মানুষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। আর একটু এদিক-সেদিক হলেই আমি মারা যেতাম।'

আজ শনিবার জার্মানি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ৪৪ বছর বয়সী ইরানি নাগরিক কিয়ারাশ।

জন্মস্থান ইরান হলেও এখন জার্মানিতে বসবাস করেন তিনি। সম্প্রতি নিজ দেশে গিয়ে বিক্ষোভ ও সহিংস দমন-পীড়নের প্রত্যক্ষদর্শী হন।

সাক্ষাৎকারে কিয়ারাশ বলেন, ১০ জানুয়ারি উত্তর তেহরানে এক বিশাল সমাবেশে হঠাৎ গুলি শুরু হয়। চাদর পরা এক ব্যক্তি ভিড়ের দিকে সরাসরি গুলি চালায়। মুহূর্তেই রক্তে ভিজে যায় রাস্তা।

তিনি জানান, তার পাশেই একটি ছেলে চিৎকার করছিল। রক্তে ভেজা হাতে তার সঙ্গীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল।

কিয়ারাশ বলেন, ছেলেটি বুঝতেই পারেনি তার সঙ্গীকে গুলি করা হয়েছে। এই দৃশ্যটা এখন আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়।
 
সেখান থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসাটা অলৌকিক মনে করেন কিয়ারাশ।

'শটগান নয়, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল'

কিয়ারাশ বলেন, সামরিক প্রশিক্ষণ থাকার কারণে ভারী মেশিনগানের শব্দ আমি চিনতে পারি। 
 
তিনি জানান, গত ৮ জানুয়ারি উত্তরাঞ্চলের আমোল শহরে গিয়েছিলেন কিয়ারাশ। সেখানে তিনি রাইফেলের শব্দ শুনেতে পান।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ইরানি এএফপিকে জানান, তেহরানের রাস্তায় বারবার গুলির শব্দ শুনেছেন তিনি।

৩৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বলেন, 'এটা শটগান নয়, স্বয়ংক্রিয় অ্যাসল্ট রাইফেলের গুলি। প্রতি ১০ মিনিটে এক দফা করা হচ্ছিল।'

তবে গুলির মুখেও লোকজন ছত্রভঙ্গ হচ্ছিল না। ওরা দাঁড়িয়ে ছিল, বলে তিনি। 

মর্গে স্বজনদের ঢল, মরদেহের স্তূপ

এএফপিকে কিয়ারাশ জানান, এক বন্ধু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে আত্মীয়দের সঙ্গে দক্ষিণ তেহরানের কবরস্থান বেহেশত-এ-জাহরায় যান তিনি।
 
কিয়ারাশ বলেন, সেখানে তখন মানুষের ঢল। দুটি গুদামে কালো ব্যাগে ভরে রাখা হয়েছে মরদেহ। কোথাও দুটি, আবার কোথাও তিনটি মরদেহের স্তূপ।

নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত তিন হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু তারা যাচাই করেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।