কী আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ১৪ দফা খসড়া চুক্তিতে?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে ১৪ দফার একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। খসড়ায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে তেহরানের প্রতিশ্রুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে বলে জানা গেছে।

তবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে নথিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ নেই।

১৪ দফার এই চুক্তি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে খসড়া চুক্তির অনুলিপি পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

বুধবার খসড়া চুক্তির ১৪ দফা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ওই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানায়, গত রোববার ডিজিটালভাবে চুক্তিতে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সই হওয়ার কথা আছে। এরপর ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত চুক্তি হবে।

১৪ দফা চুক্তিতে যা যা আছে

যুদ্ধের অবসান

খসড়ায় বলা হয়েছে, চুক্তি সইয়ের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্ররা সব ধরনের যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত বন্ধ করবে। এর মধ্যে লেবাননের সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হামলার হুমকি দেওয়া থেকেও বিরত থাকবে।


 

সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান

দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।

৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি

দুই দেশ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে উভয়ের সম্মতিতে সময় বাড়ানো যাবে।

নৌ অবরোধ প্রত্যাহার

চুক্তি সইয়ের পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ৩০ দিনের মধ্যে ওইসব এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনীও সরিয়ে নেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া

খসড়ায় বলা হয়, ইরান অবিলম্বে এমন পদক্ষেপ নেবে যেন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় (যুদ্ধ-পূর্ব) ফিরে আসে এবং পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন স্বাভাবিক হয়। এ জন্য মাইন অপসারণসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও নেবে ইরান।

৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল

যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

খসড়ায় বলা হয়, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত।

পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি

ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পারমাণবিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চুক্তিতে নেওয়া হবে।

স্থিতাবস্থা বজায় রাখা

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং এ অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করবে না।

ইরানি তেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ শিথিল

চুক্তি সইয়ের পরপরই ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবার (ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহন) ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র।

জব্দ সম্পদ মুক্ত করা

আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের স্থগিত বা জব্দ করা অর্থ ও সম্পদ ধীরে ধীরে মুক্ত করে দেওয়া হবে।

তদারকি ব্যবস্থা

চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যতে তা মেনে চলা নিশ্চিত করতে একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা গঠন করা হবে।

চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা

খসড়ায় বলা হয়, বর্তমান চুক্তির নির্দিষ্ট কয়েকটি ধারা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বাকি বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে দুই দেশ।

জাতিসংঘের অনুমোদন

চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ খসড়া চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, ফাঁস হওয়া খসড়াগুলো সঠিক নয়।