‘বিশ্বাস ভেঙেছে ইরান, পাল্টা হামলার অধিকার রাখে সৌদি আরব’
ইরান যদি এখনই প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ না করে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে রিয়াদ। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের আস্থার সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান।
রিয়াদে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
গতকাল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোয় হামলার হুমকি দেয় তেহরান। কাতার ও সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করে ইরান। এই উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এটাই সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফারহান সরাসরি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশীদের ওপর ‘পূর্বপরিকল্পিত শত্রুতাপূর্ণ’ আচরণের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেন। তেহরানকে এসব ‘প্রক্সি গোষ্ঠীকে’ নিয়ন্ত্রণে আনারও আহ্বান জানান তিনি।
রিয়াদে আঞ্চলিক দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকদের এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ‘ইরানের এই চাপ রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে ব্যুমেরাং হবে। প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমরা অবশ্যই রাখি।’
তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও সিরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিয়াদে বৈঠকে বসেন। হোটেলে যখন এই বৈঠক চলছিল ঠিক সেই সময়েই কাছাকাছি একটি এলাকা থেকে আকাশে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উঠতে দেখা যায়।
এর মধ্যেই কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার তাদের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরব লক্ষ্য করে শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এর বিশাল অংশই আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু বুধবারের হামলায় প্রথমবারের মতো রিয়াদের বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য মোবাইল ফোনে সতর্কতামূলক বার্তাও পান তারা।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। এর কিছু ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে একটি তেল শোধনাগারের কাছে পড়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও ইরান দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে উত্তেজনা কমানোর অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিন ফারহান বলেন, সৌদি আরব এখনো কূটনীতির পথই পছন্দ করে, তবে ‘ইরান যদি এখনই না থামে, তবে আমার মনে হয় আস্থার সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’