ট্রাম্পের ওপর ‘অসন্তোষ’ বাড়ছে উপসাগরীয় মিত্রদের
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
কয়েকটি দেশ অভিযোগ করেছে, ইরানের ওপর হামলার আগে তাদের যথেষ্ট সময় দিয়ে সতর্ক করা হয়নি এবং তাদের দেওয়া সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপসাগরীয় দেশের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের বরাতে বার্তাসংস্থা এপি এসব তথ্য জানিয়েছে।
দুটি উপসাগরীয় দেশের কর্মকর্তারা এপিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে হতাশ তারা।
বলেন, ‘হামলার বিষয়ে তাদের আগাম কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চলে যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা আগেই দিয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলো, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা গুরুত্ব দেয়নি।’
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক উপসাগরীয় দেশ মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইসরায়েল ও তাদের নিজস্ব সেনাদের সুরক্ষায় মনোযোগ দিয়েছে। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের রক্ষার জন্য ছেড়ে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব দেশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।’
প্রকাশ্যে সমালোচনা
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকারি প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সংযত হলেও তাদের ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করছেন।
তারা ইঙ্গিত করছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ট্রাম্পকে একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান প্রিন্স তুরকি আল-ফয়সাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা নেতানিয়াহুর যুদ্ধ। তিনি কোনোভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিজের অবস্থানের পক্ষে সমর্থন দিতে রাজি করিয়েছেন।’
প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ
গত মঙ্গলবার খোদ মার্কিন কংগ্রেসেই ইরানে যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
গোপন বৈঠকে তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের একমুখী শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করার পর্যাপ্ত সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
কংগ্রেস সদস্যরা প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন আগে থেকে এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাদের এমন প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি হেগসেথ ও কেইন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার বাইরে উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক জায়গায় একমুখী হামলাকারী ড্রোন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।
ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক বদর মুসা আল-সাইফ এপিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত উপসাগরীয় মিত্রদের ঝুঁকি কম করে দেখেছিল এবং ধারণা করেছিল যে ইরান মূলত ইসরায়েল ও মার্কিন সেনাদেরই লক্ষ্য করবে।’
তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সুরক্ষার জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব যুক্তরাষ্ট্রের অদূরদর্শিতাই প্রমাণ করে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরান ও ভেনেজুয়েলার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এলিয়ট আব্রামস বলেন, ‘মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও তাদের উপসাগরীয় মিত্ররা ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে জানতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশীরা ভীত হলেও প্রকাশ করেনি। কারণ তারা নিশ্চিত ছিল না যে ইরান আসলেই হামলা করবে।’
সৌদি আরবের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে দুর্বল দেখতে চাইলেও, যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন তারা।’
র্যাটনির মতে, এরপর যাই ঘটুক না কেন, তার সবচেয়ে বড় প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোকেই বহন করতে হবে।
এপি জানায়, এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার জবাব দেয়নি।