‘জ্বিনের বাচ্চা’র মতো সিনেমা বছরে একটি হলেই যথেষ্ট

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

অভিনয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন মৌসুমী হামিদ। তার সমসাময়িক অভিনয়শিল্পীরা কেউ কেউ গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রে অভিনয় করলেও তিনি হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। ক্যারিয়ারজুড়েই তাকে ব্যতিক্রমী চরিত্রে বেশি দেখা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘জ্বিনের বাচ্চা’।

‘জ্বিনের বাচ্চা’ ওয়েব ফিল্মে মৌসুমী হামিদ অভিনয় করেছেন বোবা মেয়ের চরিত্রে। এ ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। শিল্পীজীবনের এসব অভিজ্ঞতা একজন শিল্পীকে সমৃদ্ধ করে। আমাকেও করেছে।’

তিনি জানান, ‘জ্বিনের বাচ্চা’ সিনেমার জন্য তাকে অডিশন দিতে হয়েছে। অডিশন দিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রায় ২০ দিন হোমওয়ার্ক করতে হয়েছে।

কেমন ছিল হোমওয়ার্কের দিনগুলো? মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘অনেক কঠিন ছিল। কারণ, কথা না বলে থাকা কষ্টের ছিল। আমার চরিত্রটি কথা বলতে পারে না। কাজেই নিজে নিজে কথা না বলে থাকার চেষ্টা করেছি। কথা না বলেও শুধু অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। অনেকবার অনেক চরিত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। “জ্বিনের বাচ্চা”র জন্যও চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে।’

‘জ্বিনের বাচ্চা’র শুটিং হয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। এ বিষয়ে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘কালিয়াকৈরে সুন্দর একটা লোকেশনে কাজ হয়েছে। পুকুরের মধ্যে কয়েকটি দৃশ্য ছিল। ওই কাজগুলো কঠিন ছিল।’

বোবা চরিত্রে কতটা মিশে যেতে পেরেছেন? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমে বোবা চরিত্রটি সেভাবে হচ্ছিল না। ধীরে ধীরে হয়ে যায়। পরিচালক বলেছিলেন, আমাকে দিয়ে হবে। এখন দর্শকরা দেখার পর বলতে পারবেন, কতটা করতে পেরেছি। অবশ্য আমি শতভাগ চেষ্টা করেছি চরিত্রটির সঙ্গে মিশে যেতে।’

১৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে ‘জ্বিনের বাচ্চা’। মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘দর্শকরা ভালো একটি গল্প পাবেন। ভিন্ন একটি কাজ দেখতে পাবেন। পরিচালক অনেক খেটেছেন। বড় কথা হচ্ছে, পরিচালক এ রকম একটি গল্প বেছে নিয়েছেন। এ জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘“জ্বিনের বাচ্চা” করার পর এখনো চরিত্র থেকে বের হতে পারিনি।’

‘জ্বিনের বাচ্চা’ সিনেমায় কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘“জ্বিনের বাচ্চা”র মতো সিনেমা বছরে একটা হলেই যথেষ্ট। বেশি কাজের দরকার পড়ে না। দেখা গেল আমি এক বছরে চারটি সিনেমা করলাম, কিন্তু দর্শকদের সেভাবে নাড়া দিল না। কিন্তু মোস্তাফিজুর নূর ইমরান যে ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন, এই কাজে বহুদিন পর কনফিডেন্স পেয়েছি।’