সুমন সাজ্জাদ
হুমায়ুন আজাদকে কেন মনে রাখি
হুমায়ুন আজাদ এখনো কি প্রাসঙ্গিক? কতটা প্রাসঙ্গিক? প্রশ্নটিই মাথায় এলো। তারুণ্যের উদ্দীপ্ত দিনগুলোতে আমার মতো অনেকের কাছে যা ছিল অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিতার সাংস্কৃতিক দায় থেকে প্রশ্নটির জবাব খুঁজতেই হয়। খুব সরলভাবে দেখলে, বলা যায়, হুমায়ুন আজাদ প্রাসঙ্গিকতা হারাননি; তার প্রমাণ মৃত্যুপরবর্তীকালে হুমায়ুন আজাদের পাঠক সংখ্যার হ্রাস ঘটেনি, আবার বৃদ্ধিও ঘটেনি; যেন একটি স্থির কাঠামোতে এসে থেমে গেছে। কিন্তু তার চিন্তা ও মতের খণ্ডনে অনেকেই তৎপর।
১২ আগস্ট ২০২২, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
শাস্ত্র দিয়ে শাস্ত্র ভাঙেন বিদ্যাসাগর
বিদ্যাসাগর বঙ্গদেশে এমন এক সময়ে জন্মেছিলেন যখন প্রতিভাবান কোনো ব্যক্তিকে যুক্ত থাকতে হতো বহু কাজের সঙ্গে। রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — সবাই কোনো-না-কোনোভাবে বহু ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
৩০ জুলাই ২০২২, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও আমাদের সাহিত্য
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রধান স্তম্ভের একটি। কিন্তু, স্তম্ভটি নিয়ে আলোচনার ভাগ অনেকাংশেই কম। আয়তন ও বিস্তারে সম্ভবত লেনিন আজাদের, 'ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান: রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতি' সবচেয়ে বড় কাজ।
২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০১:২২ অপরাহ্ন
সৈয়দ শামসুল হকের খোঁজে
কথাগুলো লেগেছিল পরানের গহিন ভিতরে। যিনি লিখেছিলেন, তিনি সৈয়দ শামসুল হক- থেকে গেলেন মরমের মন্দিরে। তারুণ্যের প্রথম প্রহরে দুর্দান্ত এই আবেগের কাছে পরাস্ত না হয়ে পারা যায়নি। এক টানে পড়া শেষ হয়ে গিয়েছিল ‘পরানের গহীন ভিতরে’ বইটি। স্মৃতির ভেতর ঢুকে পড়েছিল অনেক অনেক উড়ন্ত লাইন।
২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
সংস্কৃত পালি আরবি ফারসি: ভাষার সংকট ও সম্ভাবনা
কিছু দিন আগে একটি খবর বেশ শোরগোল তুলেছিল: সংস্কৃত ভাষায় উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সংস্কৃত বলতে ও লিখতে পারেন না। হাসির জোগান দিলেও আলোচনাটি যৌক্তিক আলাপের কোনো ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি। মৃত ভাষা নিয়ে কিছু দিন হেসে খবরটি নিজেই মৃত হয়ে গেছে। অথচ প্রশ্ন উঠতে পারত যে, ভাষা মরে যায় কেন? একটি মৃত ভাষা কি একেবারেই গুরুত্বহীন? কেন সংস্কৃত শিখতে হবে? সংস্কৃত শিক্ষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা কী? বছরের পর বছর ধরে বাঙালিরা আরবি শিখেছে; তাতে কি বাংলাদেশে আরবি ভাষাচর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে? পালি ভাষার কী পরিস্থিতি? ফারসি ভাষা শিখে লোকেরা কী করছে? বাংলাদেশের প্রধান তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত, পালি, আরবি, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য পড়ানো হয় কেন? এসব প্রতিষ্ঠানের ভাষা বিষয়ক বিভাগগুলোর কর্মকাণ্ড বিষয়ে কি গবেষণা হয়েছে?
১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
সুফিয়া কামাল: কেন তাকে মনে রাখবো
ছোট্ট একটা স্মৃতি। ক্লাস থ্রি-ফোরে পড়ি। বাংলা বইয়ে একটা কবিতা ছিল নাম ‘আজিকার শিশু’, কবি সুফিয়া কামাল। মুখস্থ করতে গিয়ে দেখি কিছুই মনে থাকে না। কিন্তু আমাদের পড়াতে পড়াতে ছন্দের তালে তালে আম্মা স্মৃতি থেকে শুনিয়ে দেন, ‘আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা,/ তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।’ কিংবা ‘তোমরা যখন খেলিছ পুতুল খেলা...’ ‘বহু দিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী মায়ের কোল/ যেথা ঝাউ শাখে বনলতা বাঁধি, হরষে খেয়েছি দোল।’ মনে মনে ভাবি, আম্মাদের ছোটবেলার কবি!
২০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমন চলছে বাংলা চর্চা
‘বাংলার ভাত নেই’—অহরহ শোনা যায়। এর মানে হলো, বাংলা পড়ে ভবিষ্যতে রুটিরুজির নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। এটা যদি সত্য হয় তাহলে বাংলাদেশের এতো এতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ কেন?
৬ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
বাংলা বানানের নৈরাজ্য
'ড়বিন্দ্রণাথ ঠাকুড়'- লিখলে কেমন হয়? কিংবা লিখলাম 'কাযিণযরুল ঈষলাম'! সবার চক্ষু চড়ক গাছ না হলেও কেউ কেউ তো চমকাবেন। অবশ্য এমন কিছু প্রবল পণ্ডিত ও বিরল প্রতিভা আছেন, যারা মনে করেন, যার যেমন ইচ্ছা তেমন বানানে লিখবে। যদিও তিনি নিজে ভুল বানানে লিখছেন না, 'জার জেমণ ঈচছা তেমণ বাণাণে লীখবে।' ইংরেজি love শব্দের বানানে লিখছেন না lav। কিন্তু বাংলা শব্দের বানান ও ভাষারীতির শুদ্ধ ও মান্য রূপ নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁরা খড়্গহস্ত হন।
১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৩ অপরাহ্ন