সিলেটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে আসন বিন্যাস নিয়ে সমালোচনা
সিলেটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত মহাসমাবেশে তাদের পেছনের সারিতে সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ারে বসতে দিয়ে অসম্মান করার অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচনাকারীরা বলছেন, ওই অনুষ্ঠানেই সামনের সারিতে সোফা ও কয়েক সারি সাদা কাপড়ে মোড়ানো চেয়ারের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সেগুলো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পেছনের সারিতে সাধারণ আসনে বসানো হয়েছে।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সিলেট জেলা প্রশাসন।
তবে আয়োজকদের দাবি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়নি। কিছু মানুষ খণ্ডিত ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে আয়োজনের সমালোচনা করছেন।
সমাবেশ শুরু হওয়ার পরই আসন বিন্যাসের কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। দর্শকসারির একদম সামনের অংশে সোফা এবং তার পরে কয়েকসারিতে সাদা কাপড়ে মোড়ানো চেয়ারগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়া সংগঠকদের জন্য সংরক্ষিত থাকার কথা লেখা ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ছিল প্লাস্টিকের চেয়ার।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট মহানগর ইউনিটের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ভবতোষ রায় বর্মণ রানা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রশাসনের অবহেলায় এমনটা হয়েছে। এই অপমানের দায় আয়োজকদের। যে বা যারা এভাবে আসন সাজিয়েছেন, এটা তার ত্রুটি। এটা সবারই মনে রাখা উচিত যে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপমান, বঙ্গবন্ধুর অপমান।'
গতকাল মহাসমাবেশের মঞ্চে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিজের আসনে বসিয়ে সম্মান জানিয়েছিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'যারা সমাবেশের শুরুতে এই অসঙ্গতি দেখেছে, তারা কেন তখনই আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি? তারা বিষয়টি ঘটতে দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমানিত করার।'
তবে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাশুক উদ্দিন আহমদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতেই এই আয়োজন এবং সবাইকে যথাযথভাবে সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। সব ধরনের আসনেই মুক্তিযোদ্ধারা বসেছেন। সিলেটের জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ।'
এ ব্যাপারে জানতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সেলের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয় জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, 'প্রায় এক হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য আসন ছাড়াও সব মিলিয়ে দুই হাজার আসন বসানো হয়েছিল। মন্ত্রণালয় থেকে যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ঠিক করে দেয়া হয়েছে, তারা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আসনবিন্যাস করে স্টিকার লাগিয়েছিলেন। কিন্তু সব ধরনের আসনেই মুক্তিযোদ্ধারা বসেছেন।'
তিনি বলেন, 'আংশিক চিত্র প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়েছে দাবি করে ফেসবুকে প্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইচ্ছা করে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা হয়েছে এমনটা সেদিন আয়োজনে থাকা কোনো মুক্তিযোদ্ধা বলতে পারবেন না।'