রাজবাড়ীতে ‘চায়না দুয়ারি’ জালের ব্যবহারে বিপন্ন দেশীয় মাছ
রাজবাড়ীতে নদী-খাল-বিল-জলাশয়ে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে 'চায়না দুয়ারি' জাল। এতে হুমকিতে পড়েছে দেশীয় মাছের বংশ বৃদ্ধি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বারেক গ্রাম, মৌশানা বিল, চন্দনী, বুড়োর বিল ও বর্ষা শেষে যেসব জলাশয়ে মাছের আশ্রয় নেয় সেসব স্থানে এ জাল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই জালের স্থানীয় নাম 'চায়না দুয়ারি' হলেও দেশেই এটি উৎপাদিত হয়। তবে, জালের সুতা সূক্ষ্ম ও মিহি বলে অনেকের ধারণা এ সুতা চীন থেকে আমদানি করা হয়। এ ছাড়াও, জালের ২ মাথা খোলা থাকে বলে 'দুয়ারি' শব্দটি যোগ করা হয়েছে।
এই জালের বুননে একটি গিঁট থেকে আরেকটি গিঁটের দূরত্ব খুব কম। এ কারণে এতে একবার মাছ ঢুকলে তা আর বের হতে পারে না। স্থানীয়ভাবে একে 'ম্যাজিক জাল' ও 'ঢলুক আদালত জাল' নামেও ডাকা হয়।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দেশে যে কারণে কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ, ঠিক একই কারণে "চায়না দুয়ারি"ও নিষিদ্ধ। সরাসরি এর নাম নিষিদ্ধ জালের তালিকায় উল্লেখ না থাকলেও এটি সেই ক্যাটাগরিতে পড়ে।'
'চায়না জাল মাছের বংশ বৃদ্ধিতে মারাত্মক হুমকি। আমরা মাঝেমধ্যে সচেতনতার পাশাপাশি জেল-জরিমানার মাধ্যমে এই জাল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে থাকি।'
তিনি আরও বলেন, 'দেশে নিষিদ্ধ জালের তালিকায় "চায়না দুয়ারি"র উল্লেখ নেই। তবে, আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ। এক্ষেত্রে ভুল বোঝার সুযোগ নেই।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে 'চায়না দুয়ারি' ব্যবহারকারী এক জেলে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ জাল সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ ফুট লম্বা হয়, প্রস্থ হয় এক থেকে দেড় ফুট। গিঁট খুবই ছোট।'
তিনি আরও বলেন, 'লোহার ৪ কোণা রড দিয়ে অনেকগুলো ফ্রেম বানিয়ে জালে দেওয়া হয়। এটি নদীর তলদেশ পর্যন্ত যায় ও মাটির সঙ্গে মিশে থাকে। মাছ একবার জালে ঢুকলে আর বের হতে পারে না।'
'এই জালে যে পরিমাণ মাছ ওঠে তা অন্য জালে ওঠে না,' উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'বাজারে প্রচলিত অনেক জালের তুলনায় এর দাম বেশি।'
স্থানীয় সংবাদকর্মী রবিউল আওয়াল বলেন, 'এই জালে অনেক বিপন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মারা পড়ে। এটি যেহেতু দেশেই উৎপাদিত হয় তাই উৎপাদন বন্ধ করতে পারলে সমস্যা অনেকটা সমাধান হবে।'
রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নুরুজ্জামান বলেন, 'নদীতে "চায়না দুয়ারি" জাল পাতা হলে মাছের পোনা, এমনকি মাছের ডিমও এর সঙ্গে উঠে আসে। এতে যত মাছ ধরা পড়ে তার সবই প্রয়োজনীয় নয়।'
তিনি মনে করেন, দেশীয় মাছ রক্ষায় উপযোগী মৎস্য আইন ও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাঝেমধ্যে কারেন্ট জালের সঙ্গে 'চায়না দুয়ারি' ধ্বংস করা হলেও এর ব্যবহার দিন-দিন বেড়েই চলেছে।