৫ মাস পর খুলেছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, বেড়েছে প্রাণীর সংখ্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর, খুলে দেওয়া হয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা পার্কে প্রবেশ করছেন। দীর্ঘদিন দর্শনার্থীশূন্য থাকায় বেড়েছে পার্কের পশু-পাখির সংখ্যা।

সাফারি পার্ক সূত্র জানায়, এ সময়ে এখানকার বন্যপ্রাণীগুলোর প্রজনন বেড়েছে। ওয়াইল্ড বিস্টের ছয়টা বাচ্চা হয়েছে। জেব্রার ছয়টি বাচ্চা হয়েছে, এর সংখ্যা এখন ২৯টি। হরিণ বাচ্চা দিয়েছে ১৫টি। ময়ূরের বাচ্চা হয়েছে ৩৫টি।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বুলবুল ইসলাম। সাফারি পার্ক খোলার খবর শুনে তারা সাত বন্ধু মিলে আজ ঘুরতে গিয়েছিলেন সেখানে।

বুলবুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পার্কের ভেতর সবুজের সমারোহ নতুন বৈচিত্র্য এনেছে। বাঘ, সিংহ ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর বেষ্টনীতে কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। কিছু কিছু হিংস্র প্রাণী এখনও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।'

দীর্ঘদিন পর সাফারি পার্ক খোলার খবর শুনে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন রাজশাহীর ফিরোজ আলম। তিনি বলেন, 'পার্ক খুলে দেওয়ায় প্রকৃতির মতো আমাদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বিনোদনের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় মানুষ উৎফুল্ল।'

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শুক্রবার থেকে সাফারি পার্ক উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পার্ক বন্ধ থাকা অবস্থায় এখানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এখানকার বন্যপ্রাণীগুলোর প্রজনন অনেকটা বেড়েছে। ওয়াইল্ড বিস্টের ছয়টা বাচ্চা হয়েছে। জেব্রার ছয়টা বাচ্চা হয়েছে, এর সংখ্যা এখন ২৯টি। হরিণ বাচ্চা দিয়েছে ১৫টি। ময়ূরের বাচ্চা হয়েছে ৩৫টি। খুব স্বাভাবিকভাবেই এসব প্রাণীর জন্ম হয়েছে।'

'যেহেতু, এতদিন এখানে কোনো কোলাহল ছিল না, লোকজনের ডিস্টার্ব ছিল না। বর্তমানে এসব প্রাণীগুলো দর্শনার্থীদের জন্য একটি বাড়তি আকর্ষণ,' যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, 'সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশেও এসেছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। গাছগুলোতে বাসা বেঁধেছে অসংখ্য পাখি। পানকৌড়ি, তেলা ঘুঘুসহ অসংখ্য প্রজাতির ঘুঘু ও বক এসে ভরে গেছে। যে পাখিগুলো বাসা বেঁধেছে তারাও বাচ্চা দিয়েছে। সব মিলিয়ে পার্ক এখন পাখির রাজ্যে পরিণত হয়েছে।'

তবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে সাফারি পার্কের যে সংযোগ সড়ক, সেটা চলাচলের জন্য একবারেই অনুপযোগী। সড়কটি সংস্কার করা খুবই জরুরি।

সড়কের করুণ অবস্থার জন্য দর্শনার্থীদের বেশ দুর্ভোগের শিকার হতে হয় বলে জানান তারা।