হাতির ভয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ
বন্য হাতি আক্রমণ করে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পর হাতির ভয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা থেকে গাজীপুর ফুলতলা সড়কে।
তবে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বলছে, হাতি সচরাচর গাড়ির আলো সহ্য করতে পারে না বলে আক্রমণ করছে।
বনবিভাগের কুলাউড়া রেঞ্জ অফিসার রিয়াজ উদ্দিন আহমদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কুলাউড়া উপজেলা সদর থেকে গাজীপুর ফুলতলা সড়কে আদাআদি মোকামের পূর্বপাশে গত ৭ নভেম্বর রোববার রাতে একটি হাতি আক্রমণ চালিয়ে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনার পর থেকে ওই রোডে চলাচলকারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।'
প্রতিবছরই ওই সড়কে হাতি আক্রমণ চালায় বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের পশ্চিম বিটুলী গ্রামের আব্দুল বাহার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ফুলতলা থেকে কুলাউড়া আসার পথে আমার প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো থ ১৭-৩২৯২) যাত্রীসহ হাতির আক্রমণের শিকার হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'রাস্তার ওপরে হাতি দেখে অনেকে ব্রেক করেন। আমিও গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ করে হাতিটি এসে ধাক্কা মারে। এত জোরে ধাক্কা মারে যে, গাড়ি উল্টে যায়। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি। তবে, আমিসহ গাড়িতে থাকা সবাই কোনমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হই।'
এরপরই মোটরসাইকেলে করে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে হাতির আক্রমণের শিকার হন জুড়ির মিসবাউর রহমান। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।'
আব্দুল বাহার ও মিসবাউর রহমান জানান, সেদিন রাতে লোকজন জড়ো হয়ে ঢাকঢোল পিঠিয়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'হাতি বিরক্ত হলে, সেও মানুষকে বিরক্ত করবে। হাতি সচরাচর গাড়ির আলো সহ্য করতে পারে না। এ কারণেই এই হামলা করে থাকতে পারে। পুরুষ হাতি হলে প্রজনন মৌসুমে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটাতে পারে।'