বন্যপ্রাণী: দেশে বছরে ১০ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য
নির্বিচারে গাছপালা ধ্বংস করায় উজাড় হয়ে যাচ্ছে বন। হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণীর বসবাসের জায়গা। পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্যপ্রাণী চোরাচালানের কারণে অনেক প্রজাতি এখন বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশে প্রতিবছর বন্যপ্রাণীর ১০ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য হয়।
আজ শনিবার মৌলভীবাজারে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) বাংলাদেশ ও বন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বন্যপ্রাণীর ব্যবসা এবং এ সংক্রান্ত অপরাধের প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মানোন্নয়নের জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৪৫ জন প্রতিনিধি এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৌলভীবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আলী আহসান। তার ভাষ্য, বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য দমনে একটা বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা হলো অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা। এ জন্য জব্দ করা প্রাণীটি সঠিকভাবে শনাক্ত করার পাশাপাশি তা জব্দকরণে নেতৃত্বদানকারী সংস্থার যাবতীয় তথ্য, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান এবং আটককৃত প্রাণী বা তার দেহাংশের পরিমাণ ও বাজারদর প্রতিবেদনে তুলে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
কর্মশালার সভাপতি ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন বলেন, বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা ও জনমত তৈরি ছাড়াও পাচারকারীদের বিচারের বিস্তারিত প্রতিবেদনে তুলে ধরে গণমাধ্যমকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ২০১৫ সালের তথ্য অনুসারে বাংলাদেশ থেকে ৩১টি বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'অসচেতনতা ও লোভের কারণে দেশে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে এর ১০ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য হয়।'
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মো. জাহাঙ্গীর আলম, মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ সালাম, প্রমুখ।