হাসারাঙ্গার হ্যাটট্রিক ছাপিয়ে দুই ছক্কায় নায়ক মিলার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভানিন্দু হাসারাঙ্গার হ্যাটট্রিকে ১৮তম ওভারে ম্যাচ অনেকটা মুঠোয় চলে এসেছিল শ্রীলঙ্কার। শেষ দুই ওভারে ২৫ রানের সমীকরণ হয়ে যাওয়া ম্যাচে এরপরই কাগিসো রাবাদা আর ডেভিড মিলারের বাজিমাত। ১৯তম ওভারে ছক্কা মারেন রাবাদা। শেষ ওভারে ১৫ রানের প্রয়োজন দুই ছক্কায় মেটান মিলার।

শনিবার শারজায় সুপার টুয়েলভে গ্রুপ-১ এর ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। লঙ্কানদের করা ১৪২ রান এক বল আগে পেরিয়ে জিতেছে তারা। এই জয়ে বাঁচল প্রোটিয়াদের সেমিফাইনালের আশা, সেই আশা অনেকটা মিইয়ে গেল লঙ্কানদের। 

দলের জয়ে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ৪৬ বলে ৪৬ করে ভিত গড়লেও শেষের কাজটা করলেন মিলার। মাত্র ১৩ বলে তার ব্যাট থেকে এলো ২৩। রাবাদা অপরাজিত থাকেন ৭ বলে ১৩ করে।

তবে তাদের কেউই নয়। প্রোটিয়াদের নায়ক চায়নাম্যান তাবরাইজ শামসি। ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে তিনিই ম্যাচ সেরা।

অথচ হিরো হতে পারতেন হাসারাঙ্গা বা পাথুম নিশানকার কেউ। সব কিছু এগুচ্ছিল সেদিকেই। মন্থর উইকেটে বাকিদের ব্যর্থতার দিনে দলকে একা টেনে জুতসই পুঁজি পাইয়ে দিয়েছিন  নিশানকা। বল হাতে পরে জ্বলে উঠে লঙ্কানরা চেপেও ধরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। লেগ স্পিনে  হাসারাঙ্গা হ্যাটট্রিক করে মাত্র ২০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

Temba Bavuma

১৪৩ রান তাড়া সতর্ক শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ ওভারে জোড়া আঘাত হানেন দুশমন্ত চামিরা। রেজা হেন্ড্রিকসকে এলবিডব্লিউ করে দেওয়ার পর কুইন্টেন ডি কককেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা প্রোটিয়া ইনিংস মেরামতের চেষ্টায় ছিলেন টেম্বা বাভুমা আর রাফি ফন ডার ডুসেন। ২৩ রানের জুটির পর অষ্টম ওভারে গিয়ে আবার আঘাত হানে লঙ্কানরা। দাসুন শানাকার দারুণ থ্রোতে রান আউটে কাটা পড়েন ডুসেন।

এইডেন মার্কামকে নিয়ে পরে ঘুরে দাঁড়ান টেম্বা বাভুমা। ৪২ বলে ৪৭ রানের জুটিতে ম্যাচে ভালোভাবেই আশা ফিরে আসে প্রোটিয়াদের। বাভুমা খেলছিলেন সাবলীলভাবে।  থিতু হয়ে বিপদজনক হওয়ার আভাস দিচ্ছিলেন মার্কাম।

১৫তম ওভারে তখনই আসে কাঙ্খিত ব্রেক থ্রো। হাসারাঙ্গাকে এক চার মারার পরের বলেই গুগলি বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ওইটা ছিল ওভারের শেষ বল। পরের ওভারে ফিরে প্রথম  দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে  এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ও সুপার টুয়েলভে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করে ফেলেন হাসারাঙ্গা। এই লেগ স্পিনারের বলে উড়াতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে নিশানকার দারুণ ক্যাচে পরিণত হন ৪৬ বলে ৪৬ করা বাভুমা। পরের বলে ডোয়াইন প্রিটোয়ারিয়াস লং অনে দেন সহজ ক্যাচ। শেষ ৩ ওভারে যখন দরকার ৩১ রান। ১৮তম ওভারে হাসারাঙ্গার ওভার থেকে আসে কেবল ৬ রান। 

শেষ দুই ওভারে ম্যাচটা শ্রীলঙ্কার দিকেই ঝুঁকে ছিল। কিন্তু দুশমন্ত চামিরা-লাহিরু কুমার করেন হতাশ। চামারার প্রথম তিন বল থেকে ৩ রান এলেও চর্তুথ বলে ছক্কা মেরে দেন রাবাদা। শেষ বল ১ রান নিয়ে তিনিই ছিলেন স্ট্রাইকে। কিন্তু শেষ ওভারে লাহিরুর বলে সিঙ্গেল নিয়ে মিলারকে পথ করে দিতে ভুল করেননি। পরের দুই বলে স্লটে পেয়ে স্টেডিয়াম ছাড়া করেন মিলার। মুঠোয় চলে আসা ম্যাচে এরপর আর উত্তেজনা ছিল না। 

Pathum Nissanka

টস হেরে কঠিন উইকেটে আগে ব্যাট দেখেশুনে শুরুর পর চতুর্থ ওভারে কুসল পেরেরাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপরই আসে ভালো জুটি। তিনে নেমে এদিনও চারিথা আসালাঙ্কা ছিলেন সেরা ছন্দে। দারুণ কিছু শটে মাতিয়ে রাখেন তিনি। নিশানকার সঙ্গে জমে উঠে তার জুটি। তবে বিপদজনক জুটিটি ভেঙ্গেছে অহেতুক দুই রানের চেষ্টায়।

এক রানের জায়গায় দুই রান বানাতে গিয়ে ১৪ বলে ২১ করে রান আউটে কাটা পড়েন আসালাঙ্কা।  ২৯ বলে ৪০ রানের ওই জুটিই ইনিংস সেরা এরপর লঙ্কান ইনিংস টেনে নেওয়ার একক কারিগর নিশানকা।

আবিস্কা ফার্নেন্ডো, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, দাসুন শানাকারা ছিলেন আসা যাওয়ার মাঝে। একা টিকে থেকে রান বাড়িয়ে যান নিশানকা। চায়নাম্যান তাবরাইজ শামসির ছোবল সামলে দলকে রাখেন খেলায়। ৪৬ বলে ফিফটি করার পর দুর্বার হয়ে উঠে তার ব্যাট। বড় বড় ছক্কায় বাড়িয়েছেন রান। ১৯তম ওভারে গিয়ে আউট হওয়ার আগে ৫৮ বলে ৭২ রান করেন তিনি। ডানহাতি এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে এসেছে ৬ চার, ৩ ছক্কা। মন্থর   উইকেটের  শ্রীলঙ্কা পেয়ে যায় জুতসই পুঁজি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা:  ২০ ওভারে ১৪২ (নিশানকা ৭২, পেরেরা ৭, আসালাঙ্কা ২১, রাজাপাকসে ০, আবিস্কা ৩, হাসারাঙ্গা ৪, দাসুন ১১, করুনারত্নে ৫, চামিরা ৩,  থিকশানা ৭*, লাহিরু ০; মার্কাম ০/৮, রাবাদা ০/৩২, নরকিয়া ২/২৭, মহারাজ ০/৩৪, শামসি ৩/১৭, প্রিটোরিয়াস ৩/১৭)

দক্ষিণ আফ্রিকা:  ১৯.৫  ওভারে ১৪৬/৬    (ডি কক ১২, হেনড্রিকস ১১, ডুসেন ১৬ , বাভুমা ৪৬, মার্কাম ১৯, মিলার ২৩* , প্রিটোরিয়াস ০, রাবাদা  ১৩* ;চামিরা ২/২৭ ,থিকশানা ০/৩১ , লাহিরু ০/৩৫ , করুনারত্নে ০/২৩, হাসারাঙ্গা ৩/২০, দাসুন ০/৭ )

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তাবরাইজ শামসি।