সোহানের ব্যাটে কতটা মিটছে শেষের চাহিদা?

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে ১৩তম ওভারে আফিফ হোসেন আউট হওয়ার পর ক্রিজে গিয়েছিলেন নুরুল হাসান সোহান। উইকেটে থিতু হয়ে শেষদিকে ঝড় তোলার চাহিদা মেটানোর জন্য তার হাতে ছিল যথেষ্ট সময়। কিন্তু শেষ ওভার পর্যন্ত ক্রিজে থাকলেও এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি তেমন কিছু।

পেসার টাইমস মিলসের শিকার হওয়ার আগে ১৮ বল খেলে সোহান করেন কেবল ১৬ রান। বাংলাদেশের সংগ্রহ সেদিন ১২৪ পর্যন্ত পৌঁছেছিল মূলত নয় নম্বরে নামা নাসুম আহমেদের ৯ বলে ১৯ রানের ক্যামিওতে।

তবে শুধু এই ম্যাচই না। টি-টোয়েন্টিতে সবশেষ ১০ ইনিংসে সোহানের ব্যাট থেকে এসেছে মোটে ৬৫ রান। তার গড় ৬.৫০, স্ট্রাইক রেট ৯৪.২০।

চলতি বছর জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি একাদশে এসেছিলেন সোহান। সেখানে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৮ বলে অপরাজিত ১৬ রান করে দলের জয়ে রাখেন ভূমিকা। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে ২১ বলে অপরাজিত ২২ করেও অবদান রাখেন জেতায়। কিন্তু ওই দুটো ইনিংস ছাড়া তার ব্যাট থেকে মেলেনি আর কিছু। সাড়ে চার বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরাটা এখনো রাঙাতে পারেননি।

সোহানকে খেলানোর পেছনে মূল কারণ তার কিপিং দক্ষতা। উইকেটের পেছনে চনমনে উপস্থিতিতে নজর কাড়েন তিনি। তবে শুধু কিপিং দিয়ে টি-টোয়েন্টি একাদশে জায়গা ধরে রাখা কঠিন। শেষদিকে তার কাছ থেকে কম বলে দ্রুত কিছু রানই চাওয়া থাকবে বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ২৩ ইনিংসে ব্যাট করেছেন সোহান। ১২.১১ গড়ে ও ১১১.৪৯ স্ট্রাইক রেটে তার সংগ্রহ ১৯৪ রান। সবচেয়ে বেশিবার তিনি নেমেছেন সাত নম্বরে, যে পজিশনে দাবি থাকে কম বল বেশি রানের। কিন্তু সেখানে ১৩ ইনিংসে তার গড় ১০.২০ ও স্ট্রাইক রেট ১০৬.২৫।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুক্রবার শারজাহতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে অনেকের দিকে থাকবে চোখ। সোহানও পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে পারেন কিনা সেটিও দেখার বিষয়।