শুরুর ধাক্কা সামলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিং লাইনআপ হলো বেশ ওলটপালট। দুই ওপেনার নামলেন তিন ও চার নম্বরে। তিন নম্বর ব্যাটার নামলেন ওপেনিংয়ে। তাতে ভাগ্য বদলালো কোথায়? ১৪৩ রানের লক্ষ্যে এদিনও পাওয়ার প্লেতেই চাপে পড়ে যায় টাইগাররা।
শুক্রবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লক্ষ্য তাড়ায় ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৫৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ। জিততে হলে পরের ১০ ওভারে আরও ৮৮ রান করতে হবে টাইগারদের। লিটন দাস ১৫ ও সৌম্য সরকার ১৩ রানে ব্যাট করছেন। এর আগে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪২ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নিয়মিত ওপেনারদের ব্যর্থতায় এদিন ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে ভাগ্য বদলায়নি বাংলাদেশের। মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে ২১ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন সাকিব। যা আসরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বটে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন নাঈম ও লিটন।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে ব্যক্তিগত ৯ রানে মিডঅফে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। সে ক্যাচ ধরতে কোনো ভুল হয়নি জেসন হোল্ডারের। অবশ্য এর আগের বলেই ফিরতে পারতেন অপর ওপেনার নাঈম। মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে ক্যাচ ধরতে পারেননি অতিরিক্ত ফিল্ডার হেইডেন ওয়ালশ।
নাঈম অবশ্য খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পরের ওভারেই আউট হয়ে গেছেন হোল্ডারের বলে। তার বল ড্রাইভ করতে গেলে কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান এ ওপেনার। ফলে পাওয়ার প্লেটা এদিনও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান তুলতে পারে দলটি।
ওপেনিংয়ে নেমে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়ায় লিটন নামেন তিন নম্বরে। আর চার ম্যাচ পর একাদশে ফিরে সৌম্য নামেন চারে। এ দুইজন ধরেছেন বাংলাদেশের হাল। এখন পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ২৬ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন টাইগারদের সব বোলারই। কিন্তু পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি ফিল্ডারদের কাছ থেকে। তিনটি সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি মিলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। অন্যথায় লক্ষ্যটা আরও ছোট হতে পারতো বাংলাদেশের।
এদিন শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। দুই ওপেনারকে ফেরায় দলীয় ১৮ রানেই। এরপর অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডকে নিয়ে ৩০ রানের জুটিতে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন রোস্টন চেজ। তবে পঞ্চম উইকেটে নিকোলাস পুরানের সঙ্গে চেজের ৫৭ রানের জুটিতেই লড়াকু সংগ্রহ পেয়ে যায় দলটি। শেষদিকে দারুণ এক ক্যামিও খেলেন জেসন হোল্ডার।
এক প্রান্ত আগলে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়া চেজকে ব্যক্তিগত ৭ রানেই ফেরাতে পারতো বাংলাদেশ। সুযোগ ছিল ব্যক্তিগত ২৭ রানেও। দুইবারই তার ক্যাচ মিস করেন শেখ মেহেদী হাসান। আর ৫ বলে ১৫ রানের ক্যামিও খেলা হোল্ডার কে ফেরাতে পারতো ব্যক্তিগত ১ রানে। তার ক্যাচ মিস করেন আফিফ হোসেন।
অথচ টাইগারদের শুরুটা ছিল দারুণ। দুই বিধ্বংসী ওপেনার এভিন লুইস ও ক্রিস গেইলকে থামানো গেছে শুরুতেই। আরেক দানবীয় ব্যাটার আন্দ্রে রাসেল ফিরেছেন কোনো বল না খেলেই। দুর্ভাগ্যজনক রানআউট হয়ে যান তিনি। তবে পুরান ঠিকই ঝড় তুলেছেন।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন পুরান। ২২ বলে ১টি চার ও ৪টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। চেজের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। ৪৬ বলে ২টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। বাংলাদশের পক্ষে ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মেহেদী, মোস্তাফিজ ও শরিফুল। উইকেট না পেলেও দারুণ বোলিং করেন তাসকিন। ৪ ওভারে রান দিয়েছেন ১৭।