রাসেলের শেষ বলটা কেমন হবে আঁচ পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ
শেষ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪ রান। স্ট্রাইকে ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডিং সাজানো দেখে তিনি বুঝে গিয়েছিলেন কেমন ডেলিভারির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। আন্দ্রে রাসেলের ওই নিখুঁত ইয়র্কারে জায়গা করে নিয়েও ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। তাতে সমীকরণ মেলানো হয়নি লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে টানা তৃতীয় হারের তিক্ত স্বাদ নিয়েছে বাংলাদেশ। আগের দিন শুক্রবার শারজাহ স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ কঠিন উইকেটে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে মাত্র ৩ রানে পরাস্ত হয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। টস হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তোলা ৭ উইকেটে ১৪২ রানের জবাবে বাংলাদেশ পৌঁছাতে পারে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান পর্যন্ত।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৩ রান। শেষ বলে তা নেমে আসে ৪ রানে। তখন উইন্ডিজের ফিল্ডিং সাজানো দেখে বলের লেংথ আগে থেকে আঁচ করতে পেরেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু রাসেলের দারুণ ইয়র্কারটা ব্যাটে লাগাতে পারেননি তিনি। তাতে একটি রানও আসেনি। ফলে ম্যাচের বড় একটা সময় জুড়ে জেতার আশা দেখানো বাংলাদেশের সঙ্গী হয় হৃদয় ভাঙা হার।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে শেষ বলের সমীকরণ মেলাতে না পারার দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ, 'শেষ বলটা আমি জানতাম যে, ব্লক হোলে করবে। কারণ, যেহেতু লেগ সাইডে (সীমানায়) চারটা ফিল্ডার ছিল। আগের দুইটা বলও খুব ভালো ইয়র্কার করেছিল। সেগুলো আমি তুলতে পারিনি।'
'চিন্তা করছিলাম যে, যদি একটু জায়গা করি বা ও যদি (লেংথ) মিস করে, তাহলে মিড-অফের ওপর দিয়ে মারতে পারি বা কাভার, পয়েন্ট বা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়েও মারতে পারি। এটা আমার দোষ। আমি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি ওই শেষ বলটায়।'
পেস অলরাউন্ডার রাসেলের ওই ইয়র্কারের প্রশংসা শোনা যায় উইন্ডিজের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা জেসন হোল্ডারের কণ্ঠে, 'রাসেলের শেষ বলটা (আমার কাছে ম্যাচের সেরা মুহূর্ত)। এক বলে ৪ রান দরকার ছিল। তখন সে একটা নিখুঁত ইয়র্কার করল এবং ডট বল হলো। এটা ছিল অসাধারণ।'