ভারত-নিউজিল্যান্ড অলিখিত ‘কোয়ার্টার ফাইনালে’ কাদের পাল্লা ভারী
পাকিস্তান টানা তিন ম্যাচ জিতে যাওয়ায় তাদের সেমিফাইনালের রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার। পাকিস্তানের বাকি দুই ম্যাচ অপেক্ষাকৃত দুর্বল নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে, সেদিক থেকেও তারা অনেকটা নির্ভার। গ্রুপ- ২ থেকে সেমির আরেকটি জায়গা পেতে লড়াই ভারত-নিউজিল্যান্ডের। দুই দলের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হয়ে গেছে তাই অনেকটা অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল।
রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবেন বিরাট কোহলি ও কেইন উইলিয়মসনরা। বিশ্বকাপে দুই দলই দাঁড়িয়ে সমান বাস্তবতায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ভারত উড়ে গেলেও নিউজিল্যান্ড করেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কিন্তু জিততে পারেনি তারাও।
ভারতকে চিন্তায় রাখতে পারে আইসিসি আসরগুলোতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স। গত আঠারো বছর ধরে আইসিসি আসরগুলোতে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি ভারত। সাম্প্রতিক সময়ে যদি দেখা যায় কদিন আগেই নিউজিল্যান্ডের কাছে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল হারেন বিরাট কোহলিরা। তার আগে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হয়েছিল ভারতকে।
তবে আরেকটি পরিসংখ্যান ভারতকে দিতে পারে আশা। টি-টোয়েন্টিতে গত আড়াই বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারেনি ভারত।
মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টসও হয়ে উঠতে পারে বড় ফ্যাক্টর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বছরের এই সময়টায় রাতের বেলা পড়তে থাকে শিশির। পরে ব্যাট করা তাই অনেকটাই সুবিধাজনক। রাতের ম্যাচগুলোতে টস জিতে বেশিরভাগ দলই আগে ফিল্ডিং বেছে নেয়। শুরুতে উইকেটে পাওয়া যায় সিম মুভমেন্ট। পরে সেটা হয়ে যায় অনেকটাই গায়েব।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেমন হয়েছে একপেশে। টস জিতে পাকিস্তান আগে ফিল্ডিং করে। ভারতের ইনিংসের শুরুতে আঘাত হেনে শাহীন আফ্রিদি ঠিক করে দেন ম্যাচের গতিপথ। রান তাড়াও বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানের কোন সমস্যাই হয়নি। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচেও দেখা গেছে একই ছবি। ক্রিস ওকস-ক্রিস জর্দানের পেসে শুরুতেই বিপাকে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরে আর বড় রান করতে পারেনি তারা। রান তাড়ায় তুড়ি মেরে কাজ সেরে ফেলেন জস বাটলার। কাজেই টসই রাখবে বড় ভূমিকা।
একাদশ নিয়েও ভারতের চিন্তা কম নয়। বাজে ফর্মে থাকা পেসার ভুবনেশ্বর কুমারের জায়গা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। ফিটনেস ঘাটতিতে থাকা হার্দিক পান্ডিয়াকে খেলানোও পড়েছে সমালোচনায়। ভুবনেশ্বরের বদলে শার্দুল ঠাকুর আর হার্দিকের বদলে ঈশান কিশানকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
অপরদিকে ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, ইশ সোধি, মিচেল স্যান্টনারদের নিয়ে কিউই বোলিং আক্রমণ বেশ জুতসই। ব্যাটিং নিয়ে চিন্তায় থাকা কেইন উইলিয়ামসনরা তাকিয়ে থাকবেন টপ অর্ডারে ভালো শুরুর দিকে। বিশেষ করে মার্টিন গাপটিলের কাছ থেকে বড় কিছু চাইবে কিউইরা। বড় ভূমিকা রাখতে পারেন ডেভন কনওয়ে আর অধিনায়ক উইলিয়ামসন নিজেও।
তবে মরিয়া ভারত নাকি শান্ত মেজাজের নিউজিল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ফয়সালা হতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে কন্ডিশন ও স্নায়ুচাপ।