বাংলাদেশের গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের হিসেব-নিকেশে এগিয়ে যারা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। সম্ভাবনার বিচারে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়াও। তবে বাকিদের সামনে অনেক হিসেব-নিকেশ। সবচেয়ে কঠিন হিসেব বাংলাদেশের সামনে। দেখে নেওয়া যাক, শেষ চারে যেতে এই গ্রুপ থেকে অপেক্ষা করছে কোন সমীকরণ।

ইংল্যান্ড

খেলেছে ৩ ম্যাচ, পয়েন্ট ৬, নেট রানরেট (+৩.৯৪৮)। ম্যাচ বাকি শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

এক নম্বর গ্রুপ থেকে সবার আগে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে চলেছে ইংল্যান্ড। এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই দাপুটে জয় পেয়েছে তারা। কিন্তু গাণিতিক হিসেবে ওয়েন মরগ্যানদের সেমিফাইনাল এখনো নিশ্চিত নয়। যদি তারা শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাকি দুই ম্যাচই হেরে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া যদি নিজেদের বাকি দুই ম্যাচ জেতে তাহলে ৮ পয়েন্ট করে নিয়ে তারাই চলে যাবে শেষ চারে। তবে দুই ম্যাচের একটি জিতলেও ইংল্যান্ডের কাজ অনেকটা সহজ। কারণ পরে যাইহোক না কেন নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় তাদের পাল্লাই ভারী।

South Africa

দক্ষিণ আফ্রিকা

খেলেছে ৩ ম্যাচ, পয়েন্ট ৪, নেট রানরেট (+০.২১০)। ম্যাচ বাকি বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

তিন ম্যাচের দুটিতে জেতায় দক্ষিণ আফ্রিকার পথ সহজ না। তারা যদি পরের ম্যাচে বাংলাদেশকে হারায় এবং ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায় তাহলে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে নিজেদের বাকি খেলায় জিতে সেমিতে চলে যাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা যদি নিজেদের বাকি দুই ম্যাচ জেতে তবু তাদের পরের ধাপ নিশ্চিত নয়। কারণ অস্ট্রেলিয়াও যদি নিজেদের বাকি ম্যাচগুলোতে জিতে যায় তাহলে চলে আসবে রানরেটের হিসাব। সেখানে অবশ্য এই মুহুর্তে সুবিধাজনক অবস্থায় টেম্বা বাভুমারা।  

Australia

অস্ট্রেলিয়া

খেলেছে ৩ ম্যাচ, পয়েন্ট ৪, নেট রানরেট (-০.৬২৭)। খেলা বাকি বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

ইংল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ম্যাচ হারায় রানরেটের দিক থেকেও বিশাল অস্বস্তিতে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি দুই ম্যাচ জেতার কোন বিকল্প নেই। এরপরও থাকবে কিছু হিসেব। এবারের আসরে বাজে ছন্দে থাকা দুই দল বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচ অজিদের। এই দুই ম্যাচ জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ৮। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় তাহলে তাদের পয়েন্টও হবে আট। ইংল্যান্ডও থাকবে ৮ পয়েন্টে। তখন সেরা দুই দল ঠিক হবে নেট রানরেটের বিচারে।

Sri Lanka

শ্রীলঙ্কা

খেলেছে ৩ ম্যাচ, পয়েন্ট ২, নেট রানরেট (-০.৩৫০)। ম্যাচ বাকি ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভালো অবস্থানে থেকেও হেরে যাওয়ায় সম্ভাবনা অনেক ফিকে হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার। বাকি দুই ম্যাচ তো জিততেই হবে, অপেক্ষা করতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও। শ্রীলঙ্কার সেমিতে যেতে হলে হার কামনা করতে হবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার। নিজেদেরকে হারাতে হবে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তাহলেই কেবল ইংল্যান্ডের পেছনে থেকে শেষ চারে যেতে পারবে দাসুন শানাকার দল। অর্থাৎ বাংলাদেশকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভ শুরু করা শ্রীলঙ্কাকে এখন বাংলাদেশের জয়ই কামনা করতে হবে।

West Indies

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

খেলেছে ৩ ম্যাচ, পয়েন্ট ২, নেট রানরেট (-১.৫৯৮)। ম্যাচ বাকি শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় নেট রানরেটের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দুই ম্যাচ হারার পর তারা ৩ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে পায় প্রথম পয়েন্ট। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সেমির পথ অনেক দুরূহ। পরের ধাপে যেতে অন্যদের ফলের দিকে তাকাতে হবে তাদেরও। যদি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের বাকি দুই ম্যাচ হারে। এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি নিজেদের দুই ম্যাচ জেতে তাহলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেবে কাইরন পোলার্ডের দল।

Bangladesh cricket team
ছবি: আইসিসি টুইটার

বাংলাদেশ

৩ ম্যাচ খেলে কোনো পয়েন্ট নেই, নেট রানরেট (-১.০৬৯)। ম্যাচ বাকি দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

মজার ব্যাপার হলো প্রথম তিন ম্যাচ হারার পরও সেমিতে যাওয়ার গাণিতিক হিসেবে আছে বাংলাদেশ। তবে সেটা এমনই হিসাব বাস্তবতা যা মেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যদি ইংল্যান্ড তাদের বাকি ম্যাচগুলোতেও জিতে, বাংলাদেশ  যদি নিজেদের শেষ দুই ম্যাচ জিতে, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজও যদি একটি করে জয় পায় তাহলে পাঁচ দলের পয়েন্ট হবে ৪। সেক্ষেত্রে বিচারে আসবে নেট রানরেট। সেখানেও বাংলাদেশের অবস্থা করুণ। শেষ দুই ম্যাচ জেতাই কেবল নয় বড় ব্যবধানে জিততে হবে মাহমুদউল্লাহর দলকে। কামনা করতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার একটি করে জয়।  বাস্তবে কি এমন সমীকরণ মেলা সম্ভব?