'প্রত্যাশার চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে হেরেছি'

স্পোর্টস ডেস্ক

ভারত ক্রিকেট দলের প্রতি তাদের ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা বরাবরই থাকে উঁচুতে। তাদের অধিনায়ক বিরাট কোহলির তা অজানা নয়। তার মতে, ক্রিকেটারদেরও নিজেদের কাছ থেকে থাকে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব-নিকাশ। এই দুইয়ের সম্মিলিত চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারাকেই পরপর দুটি ম্যাচ হারার কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেন তিনি।

রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে আরেকটি বড় হারের তিক্ত স্বাদ নিয়েছে ভারত। দুবাইতে নিউজিল্যান্ডের কাছে তারা বিধ্বস্ত হয়েছে ৮ উইকেটে। এতে তাদের সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়া নিয়ে জেগেছে শঙ্কা। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে উড়ে গিয়েছিল ১০ উইকেটে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পুরো ২০ ওভার খেলে ৭ উইকেটে মাত্র ১১০ রান তুলতে পারে ভারত। জবাবে ৩৩ বল বাকি থাকতে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে কেইন উইলিয়ামসনের দল।

যে উইকেটে ভারতের ব্যাটাররা খাবি খান, পরে সেই উইকেটেই অনায়াসে রান তোলে নিউজিল্যান্ড। কী পেসার, কী স্পিনার- কারও বিপক্ষেই সুবিধা করতে পারেনি রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা। ট্রেন্ট বোল্ট ৩ উইকেট নেন ২০ রানে, ২ উইকেট পেতে ইশ সোধির খরচা ১৭ রান। শেষদিকে রবীন্দ্র জাদেজা ১৯ বলে ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস না খেললে ভারতের সংগ্রহ একশ পার হতো কিনা সন্দেহ! এই মামুলি পুঁজি নিয়ে তাদের বোলাররা পরে পারেনি বিন্দুমাত্র লড়াই করতে।

প্রত্যাশার চাপ ক্রিকেটারদের ওপর প্রভাব ফেলছে কিনা, ম্যাচের পর স্বদেশি ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলের এমন প্রশ্নের কোহলির জবাব, 'আপনি যখন ভারতীয় দলের হয়ে খেলবেন, অবশ্যই তখন আপনার প্রতি অনেক প্রত্যাশা থাকবে। সবাই এটা জানে। কেবল ভক্ত-সমর্থকদের দিক থেকে নয়, খেলোয়াড়দের নিজেদের কাছ থেকেও অনেক প্রত্যাশা থাকে। যেখানেই আমরা খেলি না কেন, আমাদের খেলা (মানুষ) দেখে। তারা আমাদেরকে সমর্থন করতে স্টেডিয়ামে আসে।'

'সবসময়ই এমনটা হয়ে এসেছে। আমরা বছরের পর বছর ধরে এটাকে (প্রত্যাশা) সাদরে গ্রহণ করেছি। ভারতের হয়ে যারা খেলে, তাদেরকে প্রত্যেককেই এটা সাদরে গ্রহণ করতে হবে এবং কীভাবে মানিয়ে নিতে হয় তা শিখতে হবে। যখন আপনি দল হিসেবে এটার সঙ্গে মানিয়ে নেবেন, তখন আপনি কঠিন পরিস্থিতিগুলোতে সেই চাপকে অতিক্রম করে যেতে পারবেন। এই দুটি ম্যাচে আমরা তা পারিনি এবং সেকারণে আমরা হেরেছি।'