পাওয়ার প্লে'তে পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা করবে বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার বড় প্রত্যাশা নিয়েই দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে প্রত্যাশার সিকিভাগও মেটাতে পারছে না টাইগাররা। মূলত নিজেদের পরিকল্পনারই সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারছে না দলটি। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে এবার তারা মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এবার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন না হলে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। এরজন্য মাঠে নেমে পাওয়ার প্লে'তে উইকেট বুঝেই সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানালেন বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।
বিশ্বকাপে এবার মিশ্র সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ভালো হলে বোলিং ভালো হচ্ছে না তাদের। আবার বোলিং হলে জ্বলে উঠতে পারছেন না ব্যাটাররা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্কোরবোর্ডে বড় পুঁজি এনেও হারতে হয়েছে তাদের। বোলাররা শুরুতে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারলেও শেষ দিকে পেরে ওঠেননি একেবারেই। যদিও ফিল্ডাররাও পারেননি সহায়তা করতে। উল্টো সহজ ক্যাচ ছেড়ে কাজটা আরও কঠিন করে দিয়েছেন তারা।
পরিস্থিতিটা বর্তমানে এমন যে হারলেই আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হবে টাইগারদের। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিততেই হবে তাদের। যেখানে তাদের বিপক্ষে খেলবেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাওয়ার হিটাররা। তাই বোলিংয়ে ঠিকঠাক পরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেটা কেমন হবে জানতে চাইলে এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বলেন, 'আমার মনে হয় আমাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোপআপ করাটা জরুরী।'
আর সে পরিস্থিতিটা পাওয়ার প্লে'তেই বুঝে নেবেন বলে জানান সোহান, 'একেকটা ম্যাচের পরিস্থিতি একেক রকম থাকে। যে জিনিসটা হয়তো শ্রীলঙ্কা ম্যাচে এক রকম ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে আরেক রকম থাকবে। আমাদের যেটা গুরুত্বপূর্ণ হলো যে, বোলিং যদি শুরু করি আমরা প্রথম ছয় ওভার পাওয়ার প্লে'টা ম্যাচের ম্যাচ কোনদিকে যাচ্ছে বা উইকেট কেমন আচরণ করতেছে সেটা বলে দেবে। একই জিনিসটা ব্যাটিং এর ক্ষেত্রেও। প্রথম ছয় ওভার খেললে বুঝতে পারব যে এই উইকেটে কত রান হচ্ছে বা আমাদের ব্যাটিং প্ল্যানটা কীভাবে করতে হবে।'
সবমিলিয়ে পাওয়ার প্লে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৫টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার তিনটি প্রথম রাউন্ডে। যেখানে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষেই খেলেছেন তারা। কিন্তু তারপরও পারেননি পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার করতে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ আর ওমানের বিপক্ষে ২৯ রান। তবে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ৪৫ রান তুলতে পেরেছিল দলটি। সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪১ রান তুলতে পারলেও শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তুলতে পারে মাত্র ২৭ রান। আর পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার করতে না পাড়ার প্রভাব পড়েছে পুরো ম্যাচে।
নিজেরা পাওয়ার প্লের ব্যবহার করতে পারেননি, আর উল্টো হয়েছে প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে। প্রথম রাউন্ডে কেবল এক পাপুয়া নিউগিনিকে স্বল্প রানে আটকাতে পেরেছিল টাইগাররা। ১৭ রানে তুলে নেয় ৪টি উইকেট। স্কটল্যান্ড করে ১ উইকেটে ৩৯ রান। এমনকি ওমানও তুলে নেয় উইকেটে ৪৭ রান। আর সুপার টুয়েলভের দুটি ম্যাচে তো প্রতিপক্ষরা করে আরও বেশি। ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা দুই দলই একটি করে উইকেট হারিয়ে করে যথাক্রমে ৫০ ও ৫৪ রান।