টাইগারদের সহজ ক্যাচ মিসে লড়াকু পুঁজিই পেল উইন্ডিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে জিততেই হবে টাইগারদের। সে লক্ষ্যে শুরু থেকেই দারুণ উজ্জীবিত বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু সে অর্থে ফিল্ডাররা পারলেন না সহায়তা করে। আবারও মাতলেন ম্যাচ মিসের মহড়ায়। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুঁজিটা অল্প রানে আটকে রাখার সম্ভাবনা থেকেও হলো না। শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের পুঁজি মিলেছে ক্যারিবিয়ানদের।

শুক্রবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪২ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পথে থাকা বাংলাদেশ দুটি সহজ ক্যাচ ছেড়েই হারে। এদিনও তিনটি সহজ ক্যাচ ছেড়ে বাংলাদেশ। যার দুটিই ছেড়েছেন শেখ মেহেদী হাসান। অথচ বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। তার ঘূর্ণিতেই শুরুতে ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। অপরটি ছাড়েন দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার আফিফ হোসেন।

তবে তা সত্ত্বেও উইন্ডিজের পুঁজিটা খুব বড় হয়নি। শারজাহর ছোট বাউন্ডারিতে এ লক্ষ্য তাড়া খুব কঠিন হওয়ার কথা নয় টাইগার ব্যাটারদের। তবে এরজন্য চাই দায়িত্বশীল ব্যাটিং।

এদিন শুরু থেকে এক প্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিবিয়ানদের টেনে নিয়ে যান রোস্টন চেজ। যাকে দুটি জীবন দিয়েছেন টাইগাররা। সাত নম্বরে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন নিকোলাস পুরান। আর শেষ দিকে জেসন হোল্ডার খেলেন ছোট ক্যামিও। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি মেলে দলটির।

এদিন শুরু থেকেই ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। যদিও প্রথম ব্রেক থ্রুটা আসে তৃতীয় ওভারে। বল হাতে নিয়ে ওভারের শেষ বলে এভিন লুইসকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন লুইস। স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ লুফে নেন মুশফিকুর রহিম।

তবে মোস্তাফিজের প্রথম বলেই উইকেট পেতে পারতো বাংলাদেশ। পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিতে চেয়েছিলেন গেইল। লুইস সাড়া দেননি। প্রায় উইকেটের মাঝে চলে গিয়েছিলেন গেইল। কিন্তু সাকিব আল হাসানের থ্রো একেবারে স্টাম্প ঘেঁষে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বেঁচে যান এ ওপেনার।

অবশ্য গেইল ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারেননি। এক ওভার পর বল হাতে ফিরে প্রথম বলেই তাকে বোল্ড করে দেন শেখ মেহেদী হাসান। ফলে পাওয়ার প্লেটা ভালোভাবেই পার করে টাইগাররা। মাত্র ২৮ রানেই আটকে রাখতে পারে ক্যারিবিয়ানদের। এ আসরে পাপুয়া নিউগিনি ছাড়া পাওয়ার প্লেতে এটাই প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে কম রানে আটকে রাখা বাংলাদেশের।

পাওয়ার প্লে শেষে ফিরে ফের উইন্ডিজ শিবিরে ধাক্কা দেন মেহেদী। তার বলে লংঅফ সীমানার উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন শিমরন হেটমায়ার। সহজ ধরতে কোনো ভুল করেননি সৌম্য সরকার। তবে এর আগের বলেই ফেরাতে পারতেন রোস্টন চেজকে। বোলারের মাথার উপর দিয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে মেহেদীর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রোস্টন। তবে সে সুযোগ লুফে নিতে পারেননি মেহেদী।

এরপর অধিনায়ক পোলার্ডকে নিয়ে দলের হাল ধরেন চেজ। গড়েন ৩০ রানের জুটি। কিন্তু অস্বস্তি বোধ করায় ১৩তম ওভারে মাঠ ছাড়েন। এর এক বল আগেই পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন তাসকিন। তবে কোনো চোট পাননি। পোলার্ডের জায়গায় মাঠে নামা আন্দ্রে রাসেল ফিরে যান কোনো বল না খেলেই। তাসকিনের বলে ড্রাইভ করেছিলেন চেজ। কিন্তু বল তাসকিনের পায়ে স্পর্শ করে অপর প্রান্তের স্টাম্প ভাঙলে রানআউট হয়ে যান রাসেল।

পরের ওভারে ফিরেই উইকেট পেতে পারতেন সাকিব। ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টায় মিডউইকেটে সহজ তুলে দিয়েছিলেন চেজ। কিন্তু কি করলেন মেহেদী। বল গেল হাত ফসকে। তাতে উইকেটরক্ষক নিকোলাস পুরানের সঙ্গে আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন চেজ। স্কোরবোর্ডে ৫৭ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটার।

এরপর শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫ বল ২টি ছক্কায় হার না মানা ১৫ রানের দারুণ এক ক্যামিও খেলেন হোল্ডার। যদিও তাকে ১ রানেই ফেরাতে পারতো বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ধরতে পারেননি আফিফ।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন পুরান। ২২ বলে ১টি চার ও ৪টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। চেজের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। ৪৬ বলে ২টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। বাংলাদশের পক্ষে ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মেহেদী, মোস্তাফিজ ও শরিফুল। উইকেট না পেলেও দারুণ বোলিং করেন তাসকিন। ৪ ওভারে রান দিয়েছেন ১৭।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৪২/৭ (গেইল ৪, লুইস ৬, চেজ ৩৯, হেটমায়ার ৯, পোলার্ড ১৪*, রাসেল ০, পুরান ৪০, ব্রাভো ১, হোল্ডার ১৫*; মেহেদী ২/২৬, তাসকিন ০/১৭, মোস্তফিজ ২/৪৩, শরিফুল ২/২০, সাকিব ০/২৮)