ছয় মাসের সুরক্ষা বলয়ে অবসাদগ্রস্ত ভারতের ক্রিকেটাররা!
সেই জুন মাসের শুরুতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে ইংল্যান্ডে রওয়ানা হয়েছিলেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা। ওই ফাইনালের পর ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাঁচ টেস্টের সিরিজ। সেই সিরিজ শেষ করেই ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি আইপিএল খেলতে উড়ে যান সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আইপিএলের পর পরই আবার সেখানেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারতের মূল কয়েকজন ক্রিকেটার টানা ছয় মাস ধরেই আছেন দেশের বাইরে! পেসার জাসপ্রিট বুমরাহ স্বীকার করলেন টানা জৈব সুরক্ষা বলয়ের ধকলে মানসিক অবসাদ হানা দিচ্ছে তাদের।
এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই দুই বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একদম উড়ে গেছে কোহলির ভারত। পাকিস্তানের কাছে ১০ উইকেটে হারের পর নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে আত্মসমর্পণ। দুই ম্যাচেই ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ মুখ থুবড়ে পড়ে। রাতের ম্যাচে আগে ব্যাট করা দলকে শিশির একটু পিছিয়ে দিলেও ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে একটা ফ্যাক্টরই কাবু করে দেবে সেটাই যেন অবাক করা।
রোববার নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পর সেমিফাইনালে উঠার আশা অনেকটা মিইয়ে গেছে হট ফেভারিটদের। ভারতীয় ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাও ছিল দুর্বল। দেখা যাচ্ছিল ক্লান্তির ছাপ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে এসে স্বীকার করলেন করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এমন টানা সুরক্ষা বলয়ের ভেতর থেকে খেলার ক্লান্তিতে কাহিল তারা, 'অবশ্যই (বলয়ের ক্লান্তি) । মাঝে মাঝে আপনার বিরতি দরকার। মাঝে মাঝে আপনি আপনার পরিবারকে মিস করবেন। আপনি এভাবে ছয় মাস ধরে আছেন। কাজেই অবচেতনে এটা কাজ করতে পারে (ক্লান্তি)। কিন্তু যখন আপনি মাঠে তখন এসব ভাবার সময় নেই। আপনি অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, সূচি কি হবে বা কোন টুর্নামেন্ট কখন হবে।'
'কাজেই পরিবার থেকে দূরে লম্বা সময় বলয়ের মধ্যে থাকা খেলোয়াড়দের মনে প্রভাব ফেলতে পারে।'
'কিন্তু তারা (কর্তৃপক্ষ) আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু বুঝতে হবে এটা একটা কঠিন সময়। একটা মহামারী চলছে। তাই আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু কখনও কখনও সুরক্ষা বলয়ের ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ হানা দেয়। কারণ আপনি বারবার একই কাজ করছেন।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের এখনো বাকি তিন ম্যাচ। কিন্তু এরমধ্যেই সেমিফাইনাল যেন দূরের স্বপ্ন। বাকি তিন ম্যাচ ভারতকে শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। এবং কামনা করতে হবে আফগানিস্তানের কাছে নিউজিল্যান্ডের হার।