ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেটের দায় দিলেন নির্বাচক হাবিবুল
ঘরের মঠে অতি মন্থর আর টার্নিং উইকেট বানিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে বারবার বলা হচ্ছিল দারুণ আত্মবিশ্বাসের কথা। কিন্তু বিশ্বকাপে একটু ভিন্ন কন্ডিশনে গিয়েই বদলে গেল বাস্তবতা। সুপার টুয়েলভে টানা তিন হারে বাংলাদেশই এখন তলানিতে। তবে দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেট নয়, ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর উইকেটই দায়ি।
স্কটল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে প্রথম পর্ব শুরুর পর বাংলাদেশ সুপার টুয়েলভে উঠে শঙ্কা পেরিয়ে। কিন্তু সুপার টুয়েলভে এসে আবার হারের বৃত্তে। শ্রীলঙ্কার কাছে ৫ উইকেটে হারের পর ইংল্যান্ডের কাছে উড়ে যায় মাহমুদউল্লাহর দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের ম্যাচে জেতার অনেক কাছে গিয়েই পুড়েছে স্বপ্নভঙ্গের হতাশায়।
শেষ ওভারে ১৩ আর শেষ বলে ৪ রানের প্রয়োজন মেটাতে পারেননি মাহমুদউল্লাহরা। দেশের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্বকাপের আগে মন্থর উইকেটে খেলে যাওয়ায় প্রস্তুতি হয়নি বাংলাদেশের। যার ফলই দেখা গেছে। শনিবার দুবাই থেকে পাঠনো ভিডিও বার্তায় হাবিবুল কিছুটা দ্বিমত করলেন এই ভাবনায়, 'এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আসার আগে আমরা অনেকগুলো ম্যাচ খেলে এসেছি, এটা একটা সুবিধা ছিল। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। জয় ত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আসলে যেটা দরকার বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ঘরোয়া যে টুর্নামেন্ট খেলি সেখানে ব্যাটিং উইকেট তৈরি করা।'
'আমরা যখন বিপিএল বা অন্য টুর্নামেন্ট খেলি তখন বারবার একই উইকেটে খেলার কারণে ভাল উইকেট পাই না। যার জন্য পাওয়ার হিটার তৈরি হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনি আপনার কন্ডিশনের সুবিধা নিতে চাইবেন। আমার মনে হয় আমাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে ভাল উইকেট বানাতে হবে।'
বৃষ্টি মৌসুমে হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠেই দেখা গেছে কিছু বড় রানের ম্যাচ। সেই উইকেটই পরে আমূল বদলে হয়ে যায় অতি মন্থর ও টার্নিং।
হারের খতিয়ানের সঙ্গে দলের অবস্থাও জানিয়েছেন হাবিবুল। শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ হারের হারের হতাশা থেকে বেরুতে পারেননি ক্রিকেটাররা। শনিবার পুরো দলকে দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম, আংশিক বিশ্রাম থাকবে রবিবারও। সোমবার শেষ দুই ম্যাচ জেতার আশা নিয়ে মাঠের অনুশীলনে নামবে দল, 'দলের সবাই আসলে খুব হতাশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে হয়ত আমরা দাঁড়াতেই পারিনি। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের জেতার সুযোগ ছিল। শেষ ম্যাচটা হৃদয় ভাঙ্গা ছিল, এটা জিততে পারলে চাঙ্গা হয়ে যেতাম। আমরা সুযোগ হাতছাড়া করেছি। সামনের দুটি ম্যাচ আছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ মানেই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জয় দিয়ে শেষ করতে চাই।'
২ নভেম্বর পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। ৪ নভেম্বর গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।