রাবাদাদের তোপে চরম বিপদে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কাগজ-কলমের ফাঁকে সূক্ষ্ম সুযোগ থাকলেও মূলত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। লড়াইটা এখন কেবল মর্যাদার। সে লড়াইয়েও অবস্থা সুবিধাজনক নেই দল। কাগিসো রাবাদা, আনরিক নরকিয়াদের বোলিং তোপে প্রচণ্ড চাপে পড়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। লড়াই করার পুঁজি পাওয়া নিয়েই দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

মঙ্গলবার আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বেহাল দশা টাইগারদের। দ্বাদশ ওভারে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৪৫ রান করেছে বাংলাদেশ। একমাত্র ব্যাটার হিসেবে দুই অঙ্কের রান (২৪) করে ফিরে গেছেন লিটন দাসও। 

বিব্রতকর পরিস্থিতি ব্যাট করছেন শেখ মেহেদী হাসান ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি। 

অথচ এদিন ব্যাটিংয়ের নেমে দেখেশুনেই শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ২২ রানের জুটিও গড়েছিলেন তারা। তাতে ভালো ইঙ্গিত দিয়েছিল দলটি। কিন্তু চতুর্থ ওভারেই ভাঙে ওপেনিং জুটি। রাবাদার বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলার খেসারৎ দেন নাঈম।  পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ১১ বলে ৯ রান করেন নাঈম।

ক্রিজে আসা সৌম্য সরকারকে দারুণ এক ইয়র্কারে ভড়কে দেন রাবাদা। একটু সামনে পা দিয়ে আটকাতে চেয়েছিলেন, বল হালকা পায়ে লেগে পরে লাগে ব্যাটে।  আম্পায়ার অবশ্য শুরুতে আঙুল তোলেননি। সফল রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরান প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। গোল্ডেন ডাকে ফেরেন সৌম্য। 

জোড়া উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে এক ওভার পর ফিরে যান মুশফিকুর রহিমও (০)। প্রথম বলেই ফিরতে পারতেন তিনি। হ্যাটট্রিক বল কোনমতে টেকিয়ে দিলেও লাভ হয়নি। ৩ বল খেলেই বিদায়।  রাবাদার কিছুটা বাড়তি বাউন্সে ব্যাটে কানা ছুঁয়ে চলে যায় স্লিপে দাঁড়ানো রিজা হ্যান্ডরিকসের হাতে। দারুণ রিফ্লেক্সে দুইবারের চেষ্টায় সে ক্যাচ লুফেন তিনি। 

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে ফেলায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কাঁধে ছিল বড় দায়িত্ব। হতাশ করেছেন তিনিও। তিনি ফিরেছেন এনরিক নরকিয়ার বাউন্সারে। গ্লাভস ছুঁয়ে চলে যায় স্লিপে দাঁড়ানো এইডেন মার্করামের হাতে। ৯ বলে ৩ রান করেন অধিনায়ক।

চার উইকেট হারিয়ে বড় চাপে ছাড়া বাংলাদেশ দলকে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে ফেলে যান আফিফ হোসেন। প্রথম বলেই এগিয়ে এসে হাঁকাতে চেয়েছিলেন এ তরুণ। ব্যাটে বলে হয়নি। ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস বল আঘাত হানে স্টাম্পে। বোল্ড হয়ে খালি হাতে ফিরেন আফিফ।

আফিফ আউট হওয়ার পর বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জায়গা পাওয়া শামিম হোসেন পাটোয়ারির সঙ্গে জুটি বাঁধার চেষ্টায় ছিলেন লিটন। কিন্তু টি-টোয়েন্টির বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার তাবরাইজ শামসি এসে ফেরান তাকে। শামসির দারুণ এক ডেলিভারি লিটনকে ধোঁকা দিয়ে টেনে আনে কিছুটা, তার আগে ছোঁয়ে যায় তার প্যাড। রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লিউতে ফেরায় ৩৬ বলে ২৪ করা লিটনকে।