ওভারে ২০-২৫ রান নেওয়ার চিন্তা আগেই করেছিলেন আসিফ
অধিনায়ক বাবর আজমের আউটের পর আসিফ আলী যখন উইকেটে গেলেন, তখন কিছুটা উৎকণ্ঠায় ছিল পাকিস্তান। ১৮ বলে তাদের প্রয়োজন ছিল ২৬ রান। এরপর নাভিন উল হকের আঁটসাঁট ওভারে শোয়েব মালিকও ফিরে গেলে বাড়ে শঙ্কা। সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ২৪ রানের।
ডানহাতি ব্যাটসম্যান আসিফ, যাকে দলে নেওয়া হয়েছে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্যের কারণে, তিনি অবশ্য টলেননি এতটুকুও। নিজের ওপর অগাধ আস্থা আর আত্মবিশ্বাস ছিল তার। নইলে কেন আফগানিস্তানের পেসার নাভিনের শেষ বলে সিঙ্গেল নেওয়ার স্পষ্ট সুযোগ থাকলেও ফিরিয়ে দেবেন শাদাব খানকে!
কারণ একটাই, স্ট্রাইকে থাকতে চেয়েছিলেন আসিফ, যার ব্যাটে আগের ম্যাচেও দেখা গিয়েছিল ঝড়। আরেক আফগান পেসার করিম জানাতের এক ওভারেই খেলা শেষ করে দেন তিনি। তাণ্ডব চালিয়ে মারেন চার চারটি ছক্কা! ওভারটি ছিল এমন- ছয়, ডট, ছয়, ডট, ছয় ও ছয়। তাতে ৬ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই ১৪৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে পাকিস্তান। সুপার টুয়েলভে টানা তিন জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এক পা দিয়েই ফেলেছে তারা।
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তানের পড়া ৬ উইকেটের ২টি নেন স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম, বাকিগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করেন অন্য চার বোলার। জবাব দিতে নেমে ব্যাট হাতে ৪৭ বলে ৫১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন বাবর। কিন্তু ম্যাচসেরার পুরস্কার কার হাতে উঠবে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় থাকেনি। ৭ বলে ২৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে আসিফই সেরা।
পুরস্কার নিতে গিয়ে ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানান, ক্রিজে গিয়েই নিজের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছিলেন তিনি, '(মাঠের) এই প্রান্ত থেকে (আসিফ যেখানে স্ট্রাইকে দাঁড়িয়ে চার ছক্কা হাঁকান) বাউন্ডারি বেশ ছোট। তাই আমি আমার সঙ্গীকে বলেছিলাম, আমি (বড় শট খেলতে) যাচ্ছি। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে পেরেছি।'
'আমি (ম্যাচের) পরিস্থিতি ও চাহিদা পর্যবেক্ষণ করি। কোন বোলারের কত ওভার বাকি আছে এবং কীভাবে ফিল্ডিং সাজানো হয়েছে সেসব দেখি। (মাঠে নেমে) আমি শোয়েবকে (মালিক) বলেছিলাম, নাভিন ওই প্রান্তে ভালো বল করছে। তবে আমি এই প্রান্ত থেকে এক ওভারেই ২০-২৫ রান তুলতে পারব। তাই আমি পরিকল্পনা করে ফেলেছিলাম।'
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বিশ্বকাপে সাড়া ফেলে দেওয়া আসিফ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে করেছিলেন অপরাজিত ২৭ রান। ১২ বলের ইনিংসে মেরেছিলেন এক চার ও তিন ছক্কা। চাপের মুহূর্তে মালিকের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটি ছিল ২৩ বলে ৪৮ রানের। তাতে ৮ বল হাতে রেখে পাকিস্তান জিতেছিল ৫ উইকেট।