উইন্ডিজকে হারিয়ে দ. আফ্রিকার প্রথম জয়

স্পোর্টস ডেস্ক

আন্দ্রে রাসেলের অসাধারণ এক থ্রো আর শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত এক ক্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাফল্য এটুকুই। সাদামাটা পুঁজিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে লড়াইটাও জমিয়ে করতে পারেনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে সহজে হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে আসরে প্রথম জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্যারিবিয়ানদের ৮ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৩ রান করে উইন্ডিজ। জবাবে ১০ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় প্রোটিয়ারা।

তবে লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য সূচনাটা ভালো ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। শুরুতেই টেম্বা বাভুমার উইকেট হারায় দলটি। মিডঅন থেকে রাসেলের দারুণ থ্রোতে আউট হন এ ওপেনার। এরপর আরেক ওপেনার রিজা হ্যান্ড্রিকসকে নিয়ে দলের হাল ধরেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। গড়েন ৫৭ রানের এ জুটি।

এ জুটিও ভাঙে আরও একটি অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে। সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ এক নিচু ক্যাচ লুফে নেন হেটমায়ার। এরপর এইডেন মার্করামকে নিয়ে বাকি কাজ শেষ করেন ডুসেন। গড়েন ৮৩ রানের অসাধারণ এক জুটি। তাতেই জয় নিশ্চিত হয় দলটির।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন মার্করাম। ২৬ বলের ইনিংসটি সাজাতে ২টি চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। ডুসেনের ব্যাট থেকে হার নামা ৪৩ রান। ৫১ বলে ৩টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। 

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সূচনাটা ভালো ছিল ক্যারিবিয়ানদের। এভিন লুইস ও লেন্ডল সিমন্সের ওপেনিং জুটিতেই আসে ৭৩ রান। কিন্তু এ জুটির সিংহভাগ রানই আসে লুইসের ব্যাট থেকে। একাদশ ওভারে লুইস যখন আউট হন সিমন্সের রান তখন ২৮ বলে মাত্র ১৩।

এদিন বেশ ধীর গতিতে ব্যাট করেন সিমন্স। ৩৫ বলে করেন ১৬ রান। এই পরিমাণ বল খেলে বিশ্বকাপে তারচেয়ে কম রান করেছেন কেবল অলক কাপালি। বাংলাদেশের এ ব্যাটার ২০০৭ বিশ্বকাপে ৩৫ বলে ১৪ রান করেছিলেন।

তবে সিমন্সের ধীর গতির ইনিংসের পরও রানির গতিটা সচল রেখেছিলেন লুইস। অপর প্রান্তে আগ্রাসনটা চালিয়ে খেলেন ৫৬ রানের ইনিংস। ৩২ বলে ফিফটি স্পর্শ করা এ ব্যাটার নিজের ইনিংসটি খেলতে বল খেলেন ৩৫টি। মারেন ৩টি চার ও ৬টি ছক্কা।

ওপেনিং জুটি ভাঙতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গড়ে ওঠেনি বলার মতো কোনো জুটি। পাঁচ নম্বরে নামা অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। তবে সতীর্থদের ব্যর্থতায় জুটি হয়নি। লেজের দিকের ব্যাটসম্যানরাও পারেননি সহায়তা করতে। ৪ রান তুলতেই হারায় ৪ উইকেট।

২০ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৬ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক পোলার্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২ ওভার বল করে ১৭ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। ২টি শিকার কেশভ মহারাজের। ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৪ রান খরচ করে ১টি উইকেট নেন আনরিচ নরকিয়া।