ইংল্যান্ডের যে পাঁচজন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হুমকি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে কখনো কোন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। দুই দলের একে অন্যের বিপক্ষে রেকর্ড পরিসংখ্যানের খাতাও তাই খুলেনি। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুদল। তার আগে তলিয়ে দেখা যাক ফর্ম ও কন্ডিশন বিচারে কারা হতে পারেন বাংলাদেশের হুমকি।

বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় আবুধাবিতে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ। দিনের ম্যাচ হওয়ায় শিশিরের কোন সমস্যা নেই। দু'দলই নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে লড়াই জমানোর সুযোগ পাচ্ছে।

আদিল রশিদ

আদিল রশিদকে প্রথমেই রাখার কারণ তার ধরণ ও সাম্প্রতিক ফর্ম। এমনিতে লেগ স্পিনারদের বিপক্ষে বরাবরই দুর্বলতা বাংলাদেশের। যদিও সুপার টুয়েলভে প্রথম ম্যাচে ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে বেশ ভালই খেলে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিমরা। তবে আদিল হতে পারেন আরও বড় হুমকি। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে নেমেই এই লেগ স্পিনার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধসিয়ে মাত্র ২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট!

প্রথাগত লেগ স্পিনের সঙ্গে তার গুগলিটাও বেশ ভয়ংকর। মাঝে মাঝে শর্ট বল দিলেও বেশিরভাগ সময় দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখে বল করতে দেখা যায় তাকে। ফিল্ডিংয়ে ফাঁদ এটে ব্যাটারদের প্রলুব্ধ করে উইকেট নেওয়ার কারিশমা জানা আদিলের বড় ক্ষমতা। আদিলকে সামলানো হবে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।

জেসন রয়

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে জেসন রয় খুব বেশি রান পাননি। কিন্তু নিজের দিনে এই ওপেনার হতে পারেন বিস্ফোরক। ভয়ডরহীন মানসিকতায় বোলারদের শুরুতেই নাড়িয়ে দিতে চান তিনি। বাংলাদেশেও বিপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে জেসনের, জানেন বাংলাদেশের বোলারদের সামর্থ্য।

তবে উইকেট একটু মন্থর হলে এই ওপেনারকে কাবু করতে পারে বাংলাদেশ। মূলত ভালো উইকেটেই খেল দেখাতে ওস্তাদ তিনি। তবে ছক্কা মারার সহজাত সামর্থ্যে এই ডানহাতির দিকে বাড়তি নজর থাকবে মাহমুদউল্লাহদের। টি-টোয়েন্টিতে তার স্ট্রাইকরেট ১৪৫.২৩। 

জস বাটলার

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই সময়ের অন্যতম সেরা ওপেনার বলা যায় জস বাটলারকে। মানিয়ে নিতে পারেন যেকোনো পরিস্থিতিতে, অনায়াসে খেলতে পারেন বড় শট। খেলার শুরুতে বোলারদের আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দিতে উইকেটকিপার এই ব্যাটসম্যান বিশ্বের যেকোনো দলের জন্যই বিপদজনক। ১৩৯.৩৩ স্ট্রাইকরেটে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার ৮৯৫ রান তার। 

মঈন আলি

অলরাউন্ডার মঈন আলি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নাড়ি নক্ষত্র জানেন। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক খেলেছেন তিনি। অফ স্পিন বোলিং আর ঝড়ো ব্যাটিং মিলিয়ে মঈন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র। ১৩৫.৩৮ স্ট্রাইকরেট দেয় তার ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও দেখা গেছে তার ঝলক। পাওয়ার প্লেতে বল করে উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের শুরুতেই এলোমেলো করেন দেন তিনি। ৪ ওভার বল করে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে বাঁহাতিদের ছড়াছড়ির মাঝে মঈন দিতে পারেন হুমকি।

মঈনকে চারে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েও দ্রুত রান আনার খোঁজ করে ইংল্যান্ড। মোস্তাফিজুর রহমানদেরও তাই কঠিন সময় দিতে পারেন মঈন। 

টাইমাল মিলস

বিশ্বের সেরা পাঁচ ডেথ ওভার স্পেশালিষ্টদের একজন এই বাঁহাতি পেসার। টি-টোয়েন্টিতে ডেথ ওভারে তার ইকোমনি রেট মাত্র ৭.৫২। তার উপরে আছেন কেবল আফগানিস্তানের রশিদ খান আর নিউজিল্যান্ডের অ্যাডাম মিলনে।

মাহমুদউল্লাহ-আফিফ হোসেনদের শেষের ঝড় থামাতে টাইমাল মিলস রাখতে পারেন বড় ভূমিকা। তাকে সামলে দ্রুত রান বের করা হবে বাংলাদেশের আরেকটি চ্যালেঞ্জ।