রউফের ভিতের পর আসিফ-মালিকে নিউজিল্যান্ডকে হারাল পাকিস্তান
বয়সটা ৪০ ছুঁইছুঁই। তারপরও বিশ্বকাপ দলে তাকে ফিরিয়ে এনেছে পাকিস্তান। আর কেন এনেছে তার প্রমাণ দিলেন শোয়েব মালিক। দলের খুব প্রয়োজনীয় মুহূর্তেই জ্বলে উঠলেন তিনি। আসিফ আলী খেললেন দারুণ এক ক্যামিও। যদিও এর আগে জয়ের ভিতটা বল হাতে গড়ে দিয়েছিলেন হারিস রৌফ। তাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় মিলেছে পাকিস্তানের।
মঙ্গলবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে কিউইরা। জবাবে ৮ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাবর আজমের দল।
তবে ছোট লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েও দারুণ লড়াই করেছে নিউজিল্যান্ড। ভারতকে ধসিয়ে দেওয়া দুই ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও অধিনায়ক বাবর আজমকে ফিরিয়ে দিয়েছিল বড় ক্ষতি করার আগেই। তবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকতে পারতো মোহাম্মদ হাফিজের ক্যাচটি। বাউন্ডারি লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরেছিলেন ডেভন কনওয়ে। তবে তাদের সব চেষ্টাই শেষ হয় অভিজ্ঞ মালিক ও আসিফের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে।
অথচ এদিন পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভেঙেছিল ২৮ রানে। দারুণ ছন্দে থাকা অধিনায়ক বাবর আজমকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন টিম সাউদি। এমনকি এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পেয়েছে তারা। টিকতে পারেননি ফখর জামান, হাফিজ, ইমাদ ওয়াসিমরা।
বড় ধাক্কাটা খায় দলীয় ৬৯ রানে। ইশ সোধির বলে আরেক ইনফর্ম ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ধরা পড়েন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। তবে ষষ্ঠ উইকেটে আসিফ আলীর সঙ্গে মালিকের অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন রিজওয়ান। ৩৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। আসিফের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ২৭ রান। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১২ বলে ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান আসিফ। ২০ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন মালিক।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে ব্যাট করতে থাকে নিউজিল্যান্ড। মার্টিন গাপটিল ও ড্যারিল মিচেলের ওপেনিং জুটিতে আসে ৩৬ রান। এরপর হারিস রৌফের তোপে পড়ে দলটি। ফলে স্কোরবোর্ডে ২০ রান যোগ করতেই ৩টি হারায় দলটি।
চতুর্থ উইকেটে ডেভন কনওয়েকে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৩৪ রানের জুটিতে চাপ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তবে হাসান আলীর দারুণ এক থ্রোতে উইলিয়ামসন বিদায় নিলে ভাঙে এ জুটি। অধিনায়কের বিদায়ের পর গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়েন কনওয়ে। তাতে লড়াইয়ের পুঁজি মিলে কিউইদের।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করে করেন মিচেল ও কনওয়ে। তবে কিছুটা আগ্রাসী ছিলেন মিচেল। ২০ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। আর কনওয়ে তার ইনিংস ২৪ বলে ৩টি চারের সাহায্যে খেলেন। এছাড়া ২৬ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৫ রান করেন উইলিয়ামসন।
অসাধারণ বোলিং করেন হারিস রৌফ। ৪ ওভার বল করে ২২ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। আগের ম্যাচে ভারতকে ধসিয়ে দেওয়া শাহিন শাহ আফ্রিদি এদিন ৪ ওভার বল করে ২১ রানের বিনিময়ে পান ১টি উইকেট। এছাড়া ইমাদ ওয়াসিম ও মোহাম্মদ হাফিজ ১টি করে উইকেট পান। তবে সবাই বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করায় লক্ষ্যটা ছিল হাতের নাগালেই।