অথচ সেই আসিফ আলি ছিলেন ব্যর্থতার আরেক নাম!
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দোলাচলে থাকা ম্যাচ বড় বড় ছক্কায় মিটিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন পাকিস্তানের আসিফ আলি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের শঙ্কা জাগা অবস্থায় নেমে এক ওভারে ছক্কায় কঠিন সমীকরণ সহজ করে পাকিস্তানকে জিতিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব আলো নেন নিজের উপর। অথচ ডানহাতি এই হার্ড হিটার ব্যাটাসম্যান পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলে কেন ঠাঁই পেয়েছেন সেই নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন।
প্রশ্ন উঠার কারণও অবশ্য ছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ১২ বলে ২৭ আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ বলে ২৫ রানের দুটি ঝড়ো ইনিংসের আগের ম্যাচগুলোর দিকে দেখা যেতে পারে। বিশ্বকাপের আগের ১২ ইনিংসে তার রান ছিল মোটে ১০৭, গড় মাত্র ৮.৯১ আর স্ট্রাইকরেট ১০০! এমন পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক।
তবে ৩০ বছর বয়েসি আসিফ পাকিস্তানে হয়ে গিয়েছিলেন রীতিমতো ট্রল আইটেম। কোন কানেকশনে তাকে দলে হয়েছে এই নিয়ে বিস্তর সমালোচনা সইতে হয়েছে নির্বাচকদের। এক সময় পোশাকের দোকানে কাজ করা আসিফ ২০১০ সালে ক্রিকেটে আসেন আচমকাই। প্রথম শ্রেণীতে অভিষেকের পর মিসবাহউল হকের নজরে পড়েন। তিনিই তাকে পিএসএলের দল ইসলামাবাদ ইউনাইটে সুযোগ দেন। জোরে বল মারতে পারার সামর্থ্যেই আসিফের বাকি পথচলা।
২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর বড় কিছু করতে পারেননি। টি-টোয়েন্টিতে তার সবচেয় বড় ইনিংস ২১ বলে ৪১ রানের। তাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলে ন ২০১৮ সালে। সব সময়ই ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগতে থাকা এই ডানহাতির সামর্থ্যে তবু আস্থা রেখে গেছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট।
তার ভূমিকা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে স্লগারের। ক্রিজে গিয়ে তিনি দ্রুত রানা আনার চেষ্টা করবেন, এতে প্রথম বলে আউট হলেও কোন সমস্যা নেই। দলের কাছ থেকে এই ভরসা পাওয়াতেই হয়ত টানা ব্যর্থতা বড় সাফল্য দিয়ে ঢেকে দিলেন আসিফ।
পাকিস্তানে যারা তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল করেছেন তারা এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে তার নামেই স্তুতি করছেন। আসিফের অবশ্য তাতে নজর নেই। বিশ্বকাপ খেলতে সব নজর থাকায় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতেই আসিফের দিকে নজর থাকবে বাড়তি।